এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়েও বাঁচানো গেল না রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পরও বাঁচানো গেল না সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, তিনি বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। রাতে চিকিৎসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে চেসিকে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে।
নিহত চেসি ত্রিপুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার শেষ পর্যায়ে থাকা এই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার। সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সেদিন রাজশাহীর বাগমারায় এক সহপাঠীর বাসায় পূজার দাওয়াতে যান চেসি ও আরেক সহপাঠী। সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন।
ফেরার পথে দুর্গাপুর এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাঁদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান চেসি। ছোট যান ও ভারী যানের সংঘর্ষে মাথায় আঘাতই প্রায়ই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে; চেসির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর তাঁকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে। মঙ্গলবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতের চিকিৎসায় এই প্রতিষ্ঠানটিই দেশের বিশেষায়িত কেন্দ্র।
সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, আইসিইউ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল—সব চেষ্টার পরও তাঁকে ফেরানো যায়নি।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনা দেশে নতুন নয়। দ্রুতগতির ভারী যান, ছোট যানের অনিরাপদ চলাচল ও সড়কের শৃঙ্খলাহীনতা প্রতিবারই এমন মৃত্যুর পেছনের কারণ হিসেবে সামনে আসে। চেসির মৃত্যু সেই আলোচনাকেই আবার তীব্র করেছে।
প্রক্টরের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পরিবারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ হস্তান্তরসহ বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।






