মাকে দিয়ে মেয়ের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন: ওহাইওর নির্বাচনে রামাস্বামীর প্রচারে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের বিরুদ্ধে তারই বিচ্ছিন্ন মাকে হাজির করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেক রামাস্বামী। বিজ্ঞাপনটিকে ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেছেন অ্যাক্টন।
বুধবার সন্ধ্যায় এক প্রচার সমাবেশে অ্যাক্টন বলেন, ‘তিনি যা করেছেন, তা ঘৃণ্য।’ বিজ্ঞাপনে অ্যাক্টনের মা ডোনা আর্থার বলেন, অ্যাক্টন ‘সারা জীবন মিথ্যা বলেছেন’। কিন্তু বিজ্ঞাপনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উল্লেখই করা হয়নি—শৈশবে অ্যাক্টনকে ধর্ষণের অভিযোগে আর্থারের স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং এরপর অ্যাক্টন ও তার ভাইকে আর্থারের হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সোমবার বিজ্ঞাপনটি প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং এই লড়াই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিদায়ী গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হতে লড়ছেন অ্যাক্টন ও রামাস্বামী। ডিওয়াইন নিজে রিপাবলিকান এবং তিনি রামাস্বামীকে সমর্থন দিয়েছেন।
তবে নিজের সমর্থিত প্রার্থীর বিজ্ঞাপন নিয়েই অস্বস্তিতে পড়েছেন ডিওয়াইন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনটিকে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। দলের ভেতর থেকেই এমন প্রতিক্রিয়া রামাস্বামীর প্রচার শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যার প্রচারে অ্যাক্টন রামাস্বামী সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কখনো তার পরিবারকে আক্রমণ করিনি। আমি কখনোই তা করব না।’ বিজ্ঞাপনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এমন অনেক মানুষ আছেন যারা জীবনে ট্রমা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’ তার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, ঘটনাটি অনেক ভোটারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকেও নাড়া দিয়েছে।
অ্যাক্টনের প্রচার শিবির বিবিসিকে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, মায়ের সঙ্গে অ্যাক্টনের শেষ দেখা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে একটি আদালত কক্ষে—তার সৎবাবার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পর। আর্থারের স্বামী বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যান, তার বিচার আর কখনো হয়নি এবং ২০০৪ সালে তিনি মারা যান।
জবাবে অ্যাক্টন নিজেও একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন এ সপ্তাহের শুরুতে। সেখানে তার ভাই শৈশবের নির্যাতনের কথা স্মরণ করেছেন এবং যৌন নিপীড়নকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়’ হিসেবে ব্যবহার করায় রামাস্বামীর সমালোচনা করেছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিজ্ঞাপনে নির্বাচনী লড়াই এখন ব্যক্তিগত ইতিহাসের বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
বিতর্কে আইনি দিকও যুক্ত হয়েছে। ওহাইওর সেক্রেটারি অব স্টেট ফ্র্যাঙ্ক লারোজ বলেছেন, রামাস্বামীর বিজ্ঞাপন নিয়ে পাওয়া অভিযোগগুলো তার দপ্তর পর্যালোচনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞাপনটি প্রথমে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সেই ঘোষণা ছাড়াই প্রচারিত হয়ে থাকতে পারে, যেখানে জানাতে হয় বিজ্ঞাপনের খরচ কে দিয়েছে।
রামাস্বামী অবশ্য পিছু হটেননি। বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরদিন সামাজিক মাধ্যমে তিনি এর দায় স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, তার প্রচার শিবির রাজ্যজুড়ে এটি প্রচারে ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড) ব্যয় করবে। অর্থাৎ সমালোচনার মধ্যেও তিনি বিজ্ঞাপনটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কলম্বাস ডিসপ্যাচের সম্পাদকীয় বোর্ড বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর অ্যাক্টনকে সমর্থন দিয়েছে। বিজ্ঞাপনটিকে তারা ‘বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছে। একটি প্রভাবশালী স্থানীয় পত্রিকার এমন অবস্থান নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার ওহাইওর সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিম রেনাচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ওহাইওর গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রচারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে থাকতে পারে। আর যে রিপাবলিকান এই বিজ্ঞাপন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে ব্যর্থ হবেন, তিনিও বিপদে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।’ নিজ দলের সাবেক আইনপ্রণেতার এমন মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
আর্থিক সমর্থনও পাচ্ছেন অ্যাক্টন। ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জে বি প্রিটজকারের স্ত্রী এম কে প্রিটজকার বুধবার ঘোষণা করেছেন, নির্বাচনে অ্যাক্টনকে সাহায্য করতে তিনি ৫ লাখ ডলার অনুদান দেবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘একজন মা তার মেয়েকে এতটা ঘৃণা করবে—এটা খুবই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। তবে আমি মনে করি না, এর সঙ্গে বিবেকের কোনো সম্পর্ক আছে।’ ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে এই বিতর্ক ওহাইওর লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।






