বড়লেখায় পালিত হলো নিরাপদ সড়ক দিবস, সিলেটের সড়কে নয় মাসে ঝরেছে ২৮৮ প্রাণ
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পালিত হয়েছে নিরাপদ সড়ক দিবস। সড়কে প্রাণহানি কমানো এবং চলাচলে সচেতনতা বাড়ানোর বার্তা নিয়ে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়, আর এবার বড়লেখায়ও সেই বার্তাই নতুন করে সামনে এসেছে।
দিবসটির গুরুত্ব বড়লেখা বা সিলেট বিভাগের মানুষের কাছে এবার আরও বেশি করে অনুভূত হওয়ার কারণ আছে। সিলেটের সড়কে গত নয় মাসে ২৮৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে — একটি সংখ্যা, যা প্রতিদিনের যাতায়াতের ঝুঁকি কতটা বাস্তব, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
২৮৮ জন মানে শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি প্রাণহানির পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, যাদের কারও উপার্জনক্ষম সদস্য, কারও সন্তান, কারও অভিভাবক সড়ক থেকে আর ঘরে ফেরেননি। সেই ক্ষতি কোনো হিসাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
সিলেট বিভাগের জেলাগুলো — সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ — জুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করেন। বড়লেখার মতো উপজেলা শহরগুলো থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষ জেলা সদর ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াত করেন কাজ, পড়াশোনা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে।
এই যাতায়াতের প্রতিটি যাত্রাই নিরাপদ হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে সড়কের ঝুঁকি রয়ে গেছে। দ্রুতগতি, অসতর্ক চালনা, ফিটনেসহীন যানবাহন, পথচারীর অসচেতনতা আর সড়কের দুর্বল ব্যবস্থাপনা — দুর্ঘটনার পেছনে এসব কারণ বারবারই আলোচনায় আসে।
নিরাপদ সড়ক দিবসের মূল কথাই হলো, দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়; সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল আচরণ দিয়ে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। চালক, যাত্রী ও পথচারী — তিন পক্ষেরই এখানে ভূমিকা রয়েছে।
বড়লেখায় দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেই সচেতনতার বার্তাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সড়ক ব্যবহারকারীদের বড় অংশই স্থানীয় মানুষ, এবং তাদের আচরণ বদলালেই স্থানীয় সড়কের চিত্র বদলাতে পারে।
নয় মাসে ২৮৮ প্রাণহানির হিসাব আরও একটি প্রশ্ন তোলে — বছরের বাকি সময়ে এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এবং তা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হচ্ছে। শুধু দিবস পালন নয়, নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োগ ছাড়া সড়ক নিরাপদ হবে না বলেই মনে করেন সচেতন মহল।
পরিবারগুলোর জন্যও বার্তাটি পরিষ্কার: মোটরসাইকেলে হেলমেট, গাড়িতে সিটবেল্ট, রাস্তা পারাপারে সতর্কতা এবং চালককে তাড়া না দেওয়া — এসব ছোট অভ্যাসই অনেক সময় জীবন বাঁচিয়ে দেয়। যাত্রীর চাপে চালক দ্রুত চালাতে বাধ্য হলে ঝুঁকি বাড়ে সবারই।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সাধারণত বড় দুর্ঘটনার পর জোরালো হয়, তারপর আবার স্তিমিত হয়ে যায়। নিরাপদ সড়ক দিবসের মতো আয়োজন সেই আলোচনাকে টিকিয়ে রাখার একটি উপলক্ষ, যাতে বিষয়টি শুধু দুর্ঘটনার দিনের শিরোনাম হয়ে না থাকে।
বড়লেখায় দিবসটি পালিত হওয়ার এই খবর তাই একদিকে যেমন সচেতনতার ইতিবাচক উদ্যোগ, অন্যদিকে তেমনি একটি সতর্কবার্তাও — সিলেটের সড়কে নয় মাসে ২৮৮ প্রাণ ঝরে যাওয়ার বাস্তবতা বদলাতে হলে প্রতিদিনের আচরণেই বদল আনতে হবে।
আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এবং সাধারণ মানুষ কতটা সমন্বিতভাবে এই বার্তাকে কাজে রূপ দেন, তার ওপরই নির্ভর করবে বড়লেখাসহ পুরো বিভাগের সড়ক কতটা নিরাপদ হয়ে উঠবে।


