সিলেটে নয় মাসে সড়কে ঝরল ২৮৮ প্রাণ, আহত আরও ৬৩০ জন
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের মাত্র নয় মাসে জেলার সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন, আর আহত হয়েছেন আরও ৬৩০ জন। হিসাবটি বলছে, গড়ে প্রায় প্রতিদিনই সিলেটের কোনো না কোনো সড়কে একজন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়।
পরিসংখ্যানটি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসের আলোচনায় প্রতিবছরই সচেতনতা ও আইন মানার ওপর জোর দেওয়া হয়, কিন্তু সিলেটের এই সংখ্যা বলছে, মাঠের বাস্তবতা এখনো অনেক দূরে।
আহত ৬৩০ জনের সংখ্যাটিও কম উদ্বেগের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের অনেকেই দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, অনেকে স্থায়ী পঙ্গুত্ব নিয়ে বাকি জীবন কাটান। প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে একটি পরিবারের উপার্জন, সন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভেঙে পড়ার গল্প থাকে।
সিলেট অঞ্চলের সড়কগুলোতে ভারী যানবাহন, দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল করে একই পথে। যানবাহনের এই মিশ্র চলাচল, অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংয়ের প্রবণতাকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।
বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সড়ক। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও পণ্যবাহী যান এই পথে চলাচল করে। ঈদসহ ছুটির মৌসুমে এই চাপ আরও বাড়ে, আর তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়। হঠাৎ উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে; আহতদের চিকিৎসার ব্যয় জোগাতে গিয়ে ধারদেনা করতে হয় অনেককে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ব্যবস্থায় কঠোরতা, ফিটনেসহীন যান চলাচল বন্ধ, মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া—সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে। শুধু সচেতনতামূলক প্রচারে ফল আসবে না।
পথচারী ও যাত্রীদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়া, চলন্ত যানে ওঠানামা না করা এবং মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহারের মতো সাধারণ নিয়ম মানলেই অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
নয় মাসে ২৮৮ মৃত্যুর এই চিত্র সিলেটের সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বছরের বাকি তিন মাসে এই সংখ্যা যেন আর না বাড়ে, সেদিকে প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।


