ফ্রান্সে শনিবার ট্রেড ইউনিয়নের বাইরে সব বিক্ষোভ নিষিদ্ধের নির্দেশ মাক্রোঁর, লিওঁতে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা
ফ্রান্সে শনিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, ট্রেড ইউনিয়নের আয়োজন ছাড়া শনিবারের সব বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে হবে। আর লিওঁ শহরে বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠকের পর মাক্রোঁ বলেন, যাদের ‘এমনটা করার কোনো বৈধতা নেই’, তাদের ‘বিক্ষোভ’ বা ‘জমায়েতের’ যেকোনো অনুরোধ ‘প্রত্যাখ্যান’ করা হবে।
মাক্রোঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গত সপ্তাহে ফ্রান্সজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতার পর ‘ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা’ করা। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, আর বিক্ষোভের আড়ালে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইতিমধ্যে অনলাইনে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ফলে ২০১৮-২০১৯ সালের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের মতো এবারও বিক্ষোভ সাপ্তাহিক ঘটনায় পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির ভাষ্য, মাক্রোঁ মনে করেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে বিতর্ক হওয়া উচিত টেলিভিশন স্টুডিওতে, সংবাদপত্রে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সের ভোটে — রাস্তায় নয়।
ট্রেড ইউনিয়নগুলো সাধারণত পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে। শনিবারের জন্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘বিকল্প পথ’ প্রস্তাব করতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মাক্রোঁ।
তিনি আরও জানিয়েছেন, শুক্রবার তিনি একটি প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন এবং এরপর ‘নতুন সিদ্ধান্ত’ ঘোষণা করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ নুনেজ বলেছেন, এই সপ্তাহান্তে অভিজাত কৌশলগত পুলিশ ইউনিটের পাশাপাশি একটি সামরিক ইউনিটও মোতায়েন করা হবে, যেটি সাধারণত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য ফ্রান্সের মাটিতে মোতায়েন করা হয়।
এদিকে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, গত সপ্তাহের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম করে ধারণা করে তারা পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিক্ষোভের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে পারেনি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্যারিসে একটি বড় ট্রেড ইউনিয়নের শনিবারের বিক্ষোভের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির অন্যতম বড় শহর লিওঁসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সব বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী মাক্রোঁ টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না, তবে প্রেসিডেন্ট পদের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু সুবিধা তিনি ধরে রাখবেন। বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও লুটপাটকে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করার ভিত্তিহীন প্রচেষ্টারও তিনি নিন্দা করেছেন।
রাজনৈতিক মাঠে অতি-ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল পেন এখনো এগিয়ে রয়েছেন, আর দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে অতি-বাম প্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ কাছাকাছি অবস্থানে আছেন। গণবিক্ষোভের পাশাপাশি ঘটে যাওয়া সহিংসতার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থতার সমালোচনার মুখে রয়েছে সরকার।
এমন পটভূমিতে শনিবারের দিনটিই এখন ফ্রান্সের জন্য বড় পরীক্ষা। নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হয় এবং প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক থেকে কী নতুন সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশটি।




