ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরংগাইল বাসস্ট্যান্ডের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুজন হলেন ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের ইয়াসিন (২১) ও বাবুল (২৮)। আহত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের মো. শাহান (৫০) ও তাঁর স্ত্রী রোজিনা আক্তার। আহত দুজনকে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌহালী থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি ইজিবাইক ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা ঢাকা থেকে পাটুরিয়াগামী সেলফি পরিবহনের একটি বাস ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইয়াসিন নিহত হন। গুরুতর আহত বাবুলকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইজিবাইকের অন্য যাত্রীদের মধ্যে শাহান ও রোজিনা আক্তার আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, এর আগেও ঘিওরের পুখুরিয়ায় সেলফি পরিবহনের বাসের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বারবার দুর্ঘটনার পরও পরিবহনটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয়রা জানান, এসব দুর্ঘটনার পর ওই পরিবহনের পারমিট বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও একই পরিবহনের বাসের চাপায় আবার প্রাণ গেল — এই ক্ষোভ থেকেই সড়ক অবরোধে নেমেছেন এলাকাবাসী।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর অন্যতম প্রধান যোগাযোগ পথ; পাটুরিয়া ফেরিঘাটমুখী যানবাহনের চাপ এই সড়কে সব সময়ই বেশি। এমন ব্যস্ত মহাসড়কে ধীরগতির ইজিবাইকের চলাচল ও বেপরোয়া বাসের গতি প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং নিহতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অবরোধ তুলে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায়।
নিহত ইয়াসিন ও বাবুলের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একই গ্রামের দুই তরুণের এমন মৃত্যুতে মৌহালী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঝরছে প্রাণ। বারবার একই পরিবহনের দুর্ঘটনা ও দাবি জানিয়েও প্রতিকার না মেলার অভিযোগ এই ঘটনায় আবারও সামনে এলো। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মামলা নয় — বেপরোয়া পরিবহনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে মহাসড়কে আর কোনো পরিবারকে এভাবে স্বজন হারাতে না হয়।






