আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্মতির কয়েক ঘণ্টা পরই কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের ঝড়, নিহত ২
আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর চলা এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং চার শিশুসহ ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, রাজধানীর অসংখ্য স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল দিনিপ্রো নদীর ওপরের দক্ষিণ সেতু, বেসামরিক বাড়িঘর, জ্বালানি অবকাঠামো, একটি অ্যাম্বুল্যান্স স্টেশন, অফিস ভবন এবং একটি মঠ।
শুধু কিয়েভ নয়, সারা দেশের ১২টি অঞ্চলে বোমা হামলা হয়েছে। দক্ষিণের শহর ওডেসায় বন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষায়, এই সর্বশেষ বিধ্বংসী হামলাই প্রমাণ করে রাশিয়া শান্তির ব্যাপারে আন্তরিক নয়। তিনি বলেন, ‘আরেক দফা আলোচনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রাশিয়া একটি ইঙ্গিতপূর্ণ হামলা চালিয়েছে। এর অর্থ, যা ঘটছে তার প্রতি তাদের মনোভাবে আসলে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
এর আগে বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে আলোচনায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ভ্লাদিমির পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। টেবিলের অপর প্রান্তে বসা পুতিনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মানবিক বলেন, আপনিও মানবিক, স্যার, আমি সেটিকে শ্রদ্ধা জানাই।’
বৃহস্পতিবার ভোরের হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কি ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে রুশ “মানবিকেরা” কিয়েভে তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তারা ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আরও বলেছেন, ‘তোষামোদ, দাসত্ব ও খোশামোদ’ রাশিয়ার আগ্রাসন থামাতে পারবে না। কিয়েভের কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, রাশিয়ার আসল উদ্দেশ্য ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা, যাতে শীতের আগে লাখ লাখ মানুষ অন্ধকার ও ঠান্ডায় পড়ে থাকে।
অন্যদিকে ক্রেমলিনের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বুধবার বলেছিলেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর ১০ নভেম্বরের পর থেকে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পুতিন ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছেন।
জেলেনস্কি পশ্চিমা অংশীদারদের মধ্যে যারা ‘পরিস্থিতিকে যেমন আছে তেমনভাবেই দেখছেন’ এবং ক্রেমলিনের যুদ্ধ থামানোর ইচ্ছা কম — এই বাস্তবতা স্বীকার করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা, শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা দেওয়া পুনরায় শুরু করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনো স্টারশিল্ডের ধীরগতি প্রত্যাহার করেনি — স্টারশিল্ড হলো এলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট স্যাটেলাইট ব্যবস্থার সামরিক সংস্করণ; এর ফলে ইউক্রেন শত্রুর ড্রোন আটকাতে বা মাঝারি পাল্লার যুদ্ধক্ষেত্র হামলা চালাতে পারছে না বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের আগে জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করাই রাশিয়ার কৌশল, এবং এই হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তোষামোদ ও খোশামোদ’ শান্তি আনতে পারবে না। আলোচনার টেবিলের আশ্বাস আর যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার এই ফারাকই এখন ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন সবার নজর ১০ নভেম্বরের পরের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দিকে — তা সত্যিই বসে কি না, এবং তার আগ পর্যন্ত হামলার তীব্রতা কোন দিকে যায়, সেটাই নির্ধারণ করবে শীতের ইউক্রেনের ভাগ্য।






