তিন বিভাগে পলিটেকনিকের কার্যক্রম শুরু, সিলেটে আট বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ
দেশের তিনটি বিভাগে নতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু হলেও সিলেটে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে আট বছর পেরিয়ে গেলেও ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজই শেষ হয়নি। ফলে কারিগরি শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি কবে শিক্ষার্থীদের জন্য খুলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য তিন বিভাগে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। অর্থাৎ একই উদ্যোগের আওতায় নির্মিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান শুরু করতে পারলেও সিলেটেরটি এখনো নির্মাণের পর্যায়েই আটকে আছে।
আট বছর ধরে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় লাগার কারণ কী, দায়িত্বপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে সেই ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। নির্মাণকাজের বর্তমান অগ্রগতি কতটুকু, তাও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
কারিগরি শিক্ষা দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরি হয়, যাদের চাহিদা দেশের শিল্প-কারখানা ও সেবা খাতে ব্যাপক। সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ এলাকায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান চালু হওয়া তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় সিলেটের যেসব শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা নিতে চান, তাদের অনেককেই অন্য জেলা বা বিভাগে যেতে হয়। এতে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা রয়েছে বলে মনে করা হয়।
সাধারণভাবে সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে দেরির পেছনে ঠিকাদারি জটিলতা, বরাদ্দের ধারাবাহিকতা কিংবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির মতো কারণগুলো প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে সিলেট পলিটেকনিকের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে কাজ আটকে আছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
তিন বিভাগে কার্যক্রম শুরু হওয়ার খবরটি একদিকে যেমন অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে সিলেটের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ সেই অগ্রগতির বৈষম্যও সামনে আনে। একই সময়ে শুরু হওয়া উদ্যোগে কোনো অঞ্চল পিছিয়ে পড়লে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এখন সবার নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে — নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কবে পাঠদান শুরু হবে, সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।


