নাইজারে এক বছরের বেশি বন্দিদশা শেষে মুক্তি পেলেন দুই ইউরোপীয় নারী, হস্তান্তর লিবিয়ায়
এক বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন দুই ইউরোপীয় নারী। সুইজারল্যান্ডের নাগরিক এভা গ্রেৎসমাখার (৭৬) ও অস্ট্রিয়ার নাগরিক ক্লাউডিয়া আবট (৬৯) — এই দুজনকে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তারা দুজনেই অপহৃত হয়েছিলেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার থেকে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আগাদেজ থেকে তারা আলাদা আলাদাভাবে অপহৃত হন — একজন গত বছরের জানুয়ারিতে, আরেকজন এপ্রিলে।
তাদের কারা আটকে রেখেছিল এবং তাদের দাবি কী ছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে কিছু প্রতিবেদনে এই অপহরণের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তির পরিস্থিতি সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি।
লিবিয়ার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নারীকে তাদের নিজ নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বৃহস্পতিবার তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
লিবিয়ার আল-মাসার টিভিতে দেখা গেছে, দুই নারী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মতো গাড়িতে উঠছেন এবং পরে একজন স্বাস্থ্যকর্মী তাদের সেবা দিচ্ছেন।
ফরাসি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে দুই নারী তাদের মুক্তির জন্য পূর্ব লিবিয়ার সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গ্রেৎসমাখার ছিলেন একজন সাহায্যকর্মী, যিনি বহু বছর ধরে নাইজারে বসবাস করছিলেন। আর আবট আগাদেজে কয়েক বছর ধরে বসবাস ও সম্প্রদায়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।
আগাদেজভিত্তিক বেসরকারি সংবাদমাধ্যম এয়ার ইনফো আগাদেজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেনগাজি থেকে একটি বিমান ছাড়ার কথা রয়েছে, যা ভিয়েনা হয়ে তাদের নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে।
এই মুক্তির পেছনের প্রেক্ষাপটে রয়েছে অঞ্চলটির দীর্ঘ অস্থিরতা। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পরের বিশৃঙ্খলা থেকে লিবিয়া এখনো পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি।
দেশটি এখন দুটি প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত — পূর্বাঞ্চলে হাফতার-সমর্থিত প্রশাসন এবং পশ্চিমে রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দিবেইবার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
অন্যদিকে নাইজারসহ বৃহত্তর সাহেল অঞ্চল বছরের পর বছর ধরে জিহাদি সহিংসতার মুখে রয়েছে। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলা ও অপহরণ সেখানে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাইজার ২০২৩ সাল থেকে সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে, যখন জেনারেল আবদুররাহমানে চিয়ানি দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এমন প্রেক্ষাপটে এক বছরের বেশি সময় পর দুই বন্দির মুক্তি তাদের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির খবর।




