নিরাপদ সড়ক দিবসে সিলেটের উদ্বেগজনক চিত্র: নয় মাসে সড়কে ঝরেছে ২৮৮ প্রাণ
আজ পালিত হচ্ছে নিরাপদ সড়ক দিবস। কিন্তু দিবসটির প্রাক্কালে সিলেট বিভাগের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সামনে এসেছে উদ্বেগজনক এক চিত্র — চলতি বছরের মাত্র নয় মাসে এই বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন।
একটি বিভাগে নয় মাসে এত মানুষের মৃত্যু সড়ক নিরাপত্তার সংকটকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। গড়ে হিসাব করলে প্রতি মাসে ত্রিশজনের বেশি মানুষ সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন এই অঞ্চলে।
প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি করে পরিবারের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, ফলে একটি দুর্ঘটনা একটি পুরো পরিবারকে ঠেলে দেয় অনিশ্চয়তার মধ্যে।
নিরাপদ সড়ক দিবসের মূল উদ্দেশ্য সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। চালক, যাত্রী ও পথচারী — তিন পক্ষই যেন নিয়ম মেনে চলে, সেই বার্তাই দিবসটির কেন্দ্রে থাকে।
সিলেট বিভাগের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে জেলাগুলোর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সড়কপথ হওয়ায় এসব সড়কে যানবাহনের চাপও থাকে অনেক বেশি।
বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা, চালকের ক্লান্তি ও অনভিজ্ঞতা এবং পথচারীদের অসতর্কতাকে সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সিলেটের চিত্রও এই সাধারণ বাস্তবতার বাইরে নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন, দুর্ঘটনা কমাতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস যাচাই এবং বিপজ্জনক বাঁক ও স্থান চিহ্নিত করে সংস্কার জরুরি।
মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার এবং গাড়িচালকদের সিটবেল্ট পরার মতো সহজ অভ্যাসগুলোও প্রাণহানি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা।
পথচারীদের জন্যও সতর্কতা জরুরি। ফুটপাত ব্যবহার, নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়া এবং চলন্ত যানবাহনের সামনে হঠাৎ নেমে না পড়ার মতো সাধারণ নিয়মগুলো মানলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক নানা আয়োজনের কথা থাকলেও প্রশ্ন থেকেই যায় — এক দিনের আয়োজন কতটা বদল আনতে পারবে প্রতিদিনের সড়কের চিত্রে। আসল পরিবর্তনের জন্য দরকার বছরজুড়ে ধারাবাহিক নজরদারি ও প্রয়োগ।
নয় মাসে ২৮৮ প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান তাই শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। আগামী দিনগুলোতে সিলেটের সড়কগুলো কতটা নিরাপদ হয়, তা নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষ, চালক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতার ওপর।


