প্রশ্ন করতেই চটলেন ট্রাম্প: সিএনএন ও এবিসির দুই নারী সাংবাদিককে বললেন ‘বোকা’ ও ‘নির্বোধ’
রাশিয়ায় চার বছর ধরে কারাবন্দি এক মার্কিন নাগরিকের মুক্তির পর দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে হোয়াইট হাউসের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের জবাবের বদলে তিনি দুই নারী সাংবাদিককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় সিএনএন ও এবিসি নিউজের দুই নারী সাংবাদিককে ‘নির্বোধ’ ও ‘কম বুদ্ধিসম্পন্ন’ বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালিগালাজ করেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এই খবর জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টের এই আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শিষ্টাচার নিয়ে বিতর্কে।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড। ইউক্রেনের হয়ে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে লড়াইয়ের অভিযোগে রাশিয়ায় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। চার বছর কারাবন্দি থাকার পর তাঁর মুক্তি মিলেছে, আর সেই মুক্তির পরপরই বুধবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।
ঘটনাস্থলে সিএনএনের প্রতিনিধি কেইটলান কলিন্স পুতিনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলে এই আমেরিকানকে মুক্ত করা সম্ভব হতো না এবং তাঁকে আরও ২৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হতো। অর্থাৎ মুক্তির বিনিময় হিসেবেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত বলে তুলে ধরেন তিনি।
কলিন্স পুনরায় এই নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প সরাসরি তাঁকে আক্রমণ করে বলেন, ‘আপনি কী বলছেন নিজেই জানেন না। আপনি একজন ডামি বা বোকা, আপনি কম বুদ্ধিসম্পন্ন একজন মানুষ এবং আপনি সিএনএনের জন্য কাজ করেন’। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে প্রশ্নোত্তরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, যখন আপনি একটি চুক্তির কাছাকাছি থাকেন এবং খুব স্পর্শকাতর দর-কষাকষি চলে, তখন আপনি নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারেন না। তাঁর এই বক্তব্যে বোঝা যায়, মুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনাকে তিনি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের প্রধান যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছেন।
পরবর্তীতে এবিসি নিউজের এক নারী সাংবাদিক একই প্রসঙ্গ তুলে জিজ্ঞেস করেন — হাবার্ডের মুক্তি নিশ্চিত করতে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কি মস্কোকে কোনো ছাড় দেওয়া নয়? প্রশ্নটি ছিল নীতিগত: এক নাগরিকের মুক্তির জন্য একটি রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত।
প্রশ্ন শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ট্রাম্প। ওই সাংবাদিকের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে ও আঙুল উঁচিয়ে ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি একজন নির্বোধ লোক? আপনি কার জন্য কাজ করেন?’ জবাবের আগেই প্রেসিডেন্টের এই পাল্টা প্রশ্নে পুরো ঘটনাস্থলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সাংবাদিক তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম এবিসি নিউজ বলে জানানোর পর ট্রাম্প বলেন, আপনি একজন বোকা মানুষ। তিনি আরও বলেন, যাই হোক, আপনাদের নেটওয়ার্কটি সবচেয়ে বাজে। এভাবে প্রশ্নকর্তার প্রতিষ্ঠানকেও আক্রমণের লক্ষ্য করেন তিনি।
পুরো ঘটনায় একটি ধারাবাহিক চিত্র দেখা গেছে — নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই প্রেসিডেন্ট নীতিগত জবাবের পাশাপাশি প্রশ্নকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। হাবার্ডের মুক্তিকে তিনি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও, সেই সাফল্যের মূল্য হিসেবে মস্কোকে দেওয়া ছাড় নিয়ে প্রশ্ন তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে।
হাবার্ডের মুক্তির পর রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই সমঝোতার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা চলছে। একদিকে এক মার্কিন নাগরিক চার বছরের কারাজীবন শেষে মুক্তি পেয়েছেন, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিকেরা — এই দুইয়ের টানাপোড়েনই হোয়াইট হাউসের সামনের এই বাকবিতণ্ডায় প্রকাশ পেয়েছে।
এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পরবর্তী চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত হাবার্ডের মুক্তির খবরের চেয়ে ট্রাম্পের সাংবাদিকদের প্রতি আচরণই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।





