ভোটার তালিকা নিয়ে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরে নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের একটি জোট ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যাতে অভিযোগ করা হয়েছে—প্রশাসন রাজ্যগুলোর পরিচালিত নির্বাচনে নিজেকে চাপিয়ে দিতে চাইছে এবং স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের মামলার হুমকি দিচ্ছে। ভোটের দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে এই মামলা আরও একটি বড় আইনি সংঘাতের সূচনা করল।
ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি, দলটির কংগ্রেস ও সিনেট প্রচার শাখা, কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং অন্যরা মিলে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন করা হয়েছে যেন তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সেই কথিত প্রচেষ্টা আটকে দেন, যার মাধ্যমে রাজ্যগুলোকে ভোটার নিবন্ধন তালিকা থেকে ভোটার বাদ দিতে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যালট আলাদা করে রাখতে এবং ‘আইনানুগ দায়িত্ব পালন ছাড়া আর কিছুই করেননি’ এমন রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের হুমকি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই মামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে এবিসি নিউজ। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের জবাবের কথা জানা যায়নি।
অন্যদিকে বিচার বিভাগ (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) বারবার তাদের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এগুলো নির্বাচন ব্যবস্থার সততা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডাসহ বিভিন্ন রাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন চলছে। বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কয়েকটি রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে—তারা জেনেশুনে ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের রেখে দিয়েছে এবং তাঁদের বাদ দিতে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছে।
মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করা কাগজপত্রে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা বিচার বিভাগের দেওয়া প্রায় ২০ হাজার অভিযুক্ত অযোগ্য ভোটারের তালিকা থেকে ২০০ জনের ‘প্রাথমিক বিশ্লেষণ’-এর ফল জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ২০০ জনের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন—যা নাগরিকত্বের শক্ত প্রমাণ। আর ৭১.২ শতাংশ নথিতে কোনো ভোট দেওয়ার ইতিহাসই নেই।
মঙ্গলবার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগের মুখপাত্র কিয়ার্স্টেন পেলস ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করতে পারে না। আমরা ক্যালিফোর্নিয়াকে জানিয়েছি যে অ-নাগরিকরা সম্ভবত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, এবং আমরা রাজ্যকে অনুরোধ করেছি আমাদের দেওয়া তালিকার লোকজন কারও ব্যালট দিয়ে থাকলে তাঁদের নাগরিকত্ব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে। রাজ্য তা করতে অস্বীকার করেছে। ফেডারেল আইন এই ইচ্ছাকৃত অন্ধত্ব অনুমোদন করে না।’
রাজ্যগুলোর দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নেওয়া প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো ফেডারেল কর্তৃত্বের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিফলন এবং এগুলোর উদ্দেশ্য নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অবিশ্বাস ছড়ানো।
ডেমোক্র্যাটদের মামলায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা ‘কথিত অ-নাগরিকদের ত্রুটিপূর্ণভাবে তৈরি তালিকা—যে লক্ষ্য-তালিকাগুলো সামান্য যাচাইয়েই ধসে পড়েছে’—ব্যবহার করে রাজ্যগুলোকে অবৈধ ভোটারদের নিবন্ধন তালিকা ছাঁটাই করতে চাপ দিচ্ছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আমেরিকার নির্বাচন ও ভোট জালিয়াতি নিয়ে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে আমেরিকান জনগণকে বোমাবর্ষণ করে আসছেন। এসব মিথ্যা প্রতিটি ক্ষেত্রে খণ্ডন করা হলেও তা কখনো প্রেসিডেন্টকে নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার অজুহাত হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখেনি, যদিও আদালতগুলো সেই প্রচেষ্টা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।’ এখন এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা—ভোটের আগেই তালিকা ছাঁটাই নিয়ে চাপ বাড়বে, নাকি আদালতের নির্দেশে তা থামবে, সেটাই দেখার বিষয়।





