সোহান-শামীমসহ চার ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় বিসিবির ওপর ক্ষুব্ধ আবুধাবির ফ্র্যাঞ্চাইজি ইউনাইটেড টাইগার্স
আবুধাবি টি-টেন লিগে খেলার জন্য চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র (অনাপত্তিপত্র) না দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ইউনাইটেড টাইগার্স। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক জাফির ইয়াসিন চৌধুরী বলেছেন, বিসিবির এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে তাঁর দল।
আবুধাবি টি-টেন লিগ শুরু হবে আগামী ৭ নভেম্বর। আসন্ন আসরকে সামনে রেখে নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, শামীম পাটোয়ারী ও সোহানুর রহমানকে দলে নিয়েছিল ইউনাইটেড টাইগার্স। নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই চার ক্রিকেটারের ছবিও পোস্ট করেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
কিন্তু বিসিবি ছাড়পত্র না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই চার ক্রিকেটারকে পাচ্ছে না ইউনাইটেড টাইগার্স। দল গোছানো, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের পর এমন সিদ্ধান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হতাশা প্রকাশ পেয়েছে তাদের বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে জাফির ইয়াসিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমের আবুধাবি টি-টেন লিগের জন্য চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে ইউনাইটেড টাইগার্স। এবারের প্রতিযোগিতায় আমরাই একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফখর জামানের নেতৃত্বে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, এই টুর্নামেন্ট তাদের অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার এবং একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ করে দেবে।’ অর্থাৎ বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এই লিগকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি মঞ্চ হিসেবেই দেখেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
সরাসরি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সমালোচনা করেছেন জাফির ইয়াসিন। তিনি বলেন, ‘বিসিবি এই খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেনে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও হতাশ। বিশেষ করে, আমাদের জানা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে তাদের কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব নেই।’
তাঁর অভিযোগ, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের বর্তমান নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এবং আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, এমন বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে আমরা আরও স্পষ্টতা ও সমন্বয় আশা করেছিলাম।’
জাফির ইয়াসিনের মতে, বিসিবির এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব এই একটি আসরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর ভাষায়, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে পারে।’
তিনি যুক্তি দেন, খেলোয়াড় সংগ্রহ, পরিকল্পনা ও আর্থিক বিনিয়োগ সম্পন্ন করার পরও তাঁদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে না পারলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশি প্রতিভায় বিনিয়োগের বিষয়ে অনীহা দেখাতে পারে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মতে, শেষ পর্যন্ত এর ফলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ ও অভিজ্ঞতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
৭ নভেম্বর লিগ শুরুর আগে এখন ইউনাইটেড টাইগার্সকে এই চার ক্রিকেটারের বিকল্প খুঁজতে হবে। অন্যদিকে, বিসিবি কেন এই ছাড়পত্র দিল না — সে বিষয়ে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে বিতর্কের ছবিটি আরও পরিষ্কার হবে।






