লাইপজিগকে উড়িয়ে দেওয়ার রাতে জিদানকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, সামনে এখন শুধু বেনজেমা
চ্যাম্পিয়নস লিগে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রাতটা স্মরণীয় করে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। দলের জয়ে গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখার পাশাপাশি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পাশে নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এখন তাঁর সামনে শুধু করিম বেনজেমার রেকর্ড।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি লাইপজিগ। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা, আর সেই আধিপত্যেরই প্রতিফলন ৪-১ গোলের বড় জয়।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে আর্দা গুলারকে হেডে নিখুঁত পাস দিয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করান এমবাপ্পে। সতীর্থের গোলে সরাসরি অবদান রাখার এই মুহূর্তটিই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় জিদানের পাশে বসিয়ে দেয়।
এরপর নির্ধারিত সময়ের সাত মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৩ মিনিটে, নিজেও জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোল আর অ্যাসিস্ট—দুই ভূমিকাতেই উজ্জ্বল ছিলেন তিনি এই রাতে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এমবাপ্পের অ্যাসিস্টের সংখ্যা এখন ২৬। ফরাসি খেলোয়াড়দের মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিনি।
এত দিন সমান ২৬টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এককভাবে দুই নম্বরে ছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার জিনেদিন জিদান। লাইপজিগের বিপক্ষে অ্যাসিস্টটি পেয়ে তাঁকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই তারকা এখন একই সারিতে।
এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন এমবাপ্পের সাবেক সতীর্থ করিম বেনজেমা। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর অ্যাসিস্ট ২৭টি। ফলে বেনজেমার রেকর্ড ছুঁতে এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট; আর সেটি পেলেই যুগ্মভাবে শীর্ষে উঠবেন তিনি, পরের অ্যাসিস্টে হয়ে যাবেন একক শীর্ষে।
ফরাসি খেলোয়াড়দের মধ্যে চতুর্থ স্থানে থাকা থিয়েরি অঁরির অ্যাসিস্ট ২৫টি। অর্থাৎ জিদানকে ছোঁয়ার পথে অঁরিকেও পেছনে ফেলেছেন এমবাপ্পে, আর তালিকার চূড়ান্ত লড়াইটা এখন তাঁর আর বেনজেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
লাইপজিগের বিপক্ষে এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৯। তবে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি); রিয়াল রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
অন্যদিকে হারের পর মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ২৯তম স্থানে আছে লাইপজিগ। জার্মান ক্লাবটির জন্য লিগ পর্বের বাকি পথ তাই আরও কঠিন হয়ে গেল।
এমবাপ্পের জন্য এই রাত তাই শুধু একটি জয়ের রাত নয়, ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে নিজের জায়গা আরও পোক্ত করার রাতও। সামনের ম্যাচগুলোতে সবার চোখ থাকবে একটাই প্রশ্নে—বেনজেমার ২৭ অ্যাসিস্টের রেকর্ড তিনি কবে ছোঁন, আর কবে পেরিয়ে যান।






