বৃষ্টি নেই, তবু হাঁটুপানি: শ্রীপুরে জমে থাকা নোংরা পানিতে নষ্ট হচ্ছে পোশাক, স্কুলে যেতে ভোগান্তি শিশুদের
বৃষ্টি নেই, তবু সড়কে জমে আছে হাঁটুপানি। সেই নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিশুদের, আর একই পথে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরা। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা-বারতোপা সড়কের বর্ণমালা মোড় এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের প্রায় ৬০০ ফুট অংশে জমে থাকা পানি শুধু চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে না, এর সঙ্গে মিশে থাকা ময়লা ও পয়োবর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধযুক্ত এই পানি মাড়িয়ে চলাচল করায় শিশু, শিক্ষার্থী ও আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাটিতে রয়েছে বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেন, বায়তুস সালাম জামে মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক মো. জাহিদুল হক সুমন জানান, তার বিদ্যালয়ে প্লে শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। যারা আসছে, তাদের অনেকের স্কুলড্রেস ও জুতা নোংরা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কোনো কোনো অভিভাবক শিশুকে কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিদিন সকালে ও ছুটির সময় বর্ণমালা মোড় এলাকায় এই চিত্রই এখন নিয়মিত দৃশ্য।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরাও একই ভোগান্তির শিকার। বায়তুস সালাম জামে মসজিদের মুসল্লি তারেক হাসান জানান, মসজিদে যাওয়ার পথে নোংরা পানি পোশাক ও জুতায় লেগে যাচ্ছে। কখনো কখনো এ অবস্থাতেই নামাজ আদায় করতে হচ্ছে তাকে।
তার অভিযোগ, সড়কে জমে থাকা পানির সঙ্গে বিভিন্ন বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য মিশে থাকায় পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। ফলে ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও দৈনন্দিন—সব ধরনের চলাচলেই এই জলাবদ্ধতা এখন বড় বাধা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ণমালা মোড়ের জলাবদ্ধতার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতাই বড় কারণ। আশপাশের আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় পানি ড্রেনে জমছে। অন্যদিকে ড্রেনে বর্জ্য জমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তা সড়কে উপচে পড়ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করা এবং পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নিষ্কাশনব্যবস্থা ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঞা জানান, তিনি জলাবদ্ধতার বিষয়টি অবগত আছেন। সড়কটি পরিদর্শন করে সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা, পরিদর্শন ও আশ্বাসের পর মাঠপর্যায়ে কাজ কবে শুরু হয়। কারণ বৃষ্টি ছাড়াই যদি সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকে, তাহলে সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই করছেন বর্ণমালা মোড় এলাকার বাসিন্দারা।




