গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতের আগুনে পুড়ল মসজিদ, ঝুটের গুদাম ও একাধিক দোকান: চার ইউনিটের দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি মসজিদ, ঝুট ও তুলার গুদামসহ বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে বাজার এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঝুট ও তুলার মতো দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল; সেই কারণেই একের পর এক অতিরিক্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে ডাকতে হয়।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম জানান, রাত তিনটা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান তাঁরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রথম দুটি ইউনিট পৌঁছানোর পর আগুন নেভানোর কাজ শুরু হলেও তা দ্রুত বড় আকার নেয়।
পরে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের আরও একটি এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। এভাবে মোট চারটি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করে আগুন ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালায়।
তিনি জানান, চারটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর পাঁচটা ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে শুরু হওয়া আগুন ভোরের আলো ফোটার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিস্তার ঠেকানো গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগুনে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি দোকান, কয়েকটি মুরগির দোকান, ভাঙারির দোকান এবং একটি মসজিদ পুড়ে গেছে। বাজারের একাংশের দোকানপাট একের পর এক পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বড় হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিক হিসাব এখনো আসেনি।
মসজিদ পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকার মানুষকে বিশেষভাবে মর্মাহত করেছে। বাজারের দোকান ও গুদামের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিও আগুন থেকে রক্ষা পায়নি। ভোরে খবর পেয়ে এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গভীর রাতে বাজার ফাঁকা থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে; এটি এই দুর্ঘটনার একমাত্র স্বস্তির দিক।
আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। কারণ জানা না গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হবে; তাই তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
বাজারে ঝুট ও তুলার গুদামের মতো দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকা আগুনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন বাজারগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ছিল, তদন্তে সেই প্রশ্নও উঠে আসতে পারে। আপাতত পুড়ে যাওয়া দোকান ও গুদামের ব্যবসায়ীদের সামনে বড় প্রশ্ন, ক্ষতি কাটিয়ে তারা আবার কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন।




