…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
জাতীয়

নিরাপদ সড়ক দিবসে পুরনো প্রতিশ্রুতিই নতুন: ১১১ সুপারিশ পড়ে আছে, ছয় বছরে প্রাণ গেছে ৪০ হাজারের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ২২ অক্টোবর বাংলাদেশে পালিত হয় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য, নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই স্লোগান সামনে রেখে আজ দেশজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু দিবসের আয়োজনের আড়ালে সড়কের চিত্র বদলায়নি: প্রতিদিন নানা কাজে ঘর থেকে বের হন মানুষ, কেউ যান কর্মক্ষেত্রে, কেউ বেড়াতে, কেউ জরুরি কাজে। কাজ শেষে অনেকেই ঘরে ফেরেন, কিন্তু অনেকেই ফেরেন না।

ভয়াবহ এই চিত্রের সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যান হলো, গত ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। বাংলাদেশে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার ও অটোরিকশা। এসব যানবাহনের বেশির ভাগেরই ফিটনেস সনদ নেই। এগুলোই সড়কে যাত্রীদের জন্য একেকটি চলন্ত মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ প্রতিদিন সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ হয়ে ঘরে ফিরছেন, আবার অনেকে বরণ করছেন জীবনের তরে পঙ্গুত্ব।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৬ সালের গত নয় মাসে নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ২১১ জন। এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৭টি এবং নিহত হয়েছেন ১৬ জন, আহত হয়েছেন গড়ে প্রতিদিন ৪০ জন। সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, দেশে ৪ হাজার ২৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ১৫৭ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৫ জনের বেশি। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৯১ জন। দুই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সামান্য হেরফের থাকলেও প্রতিদিনের প্রাণহানির মাত্রা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই।

অথচ দেশের সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্য ২০১৯ সালে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের মাধ্যমে সাতটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে মোট ১১১টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। এই বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন বা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সরকার বিদ্যমান আইন নতুন করে সংশোধন করে বাস্তবায়নের কথা বলছে, যদিও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের গতি মন্থর। প্রতি বছরের মতো এবারও সেমিনার কক্ষ, সুশীল সমাজের টেবিল আর প্রশাসনিক দপ্তরের বড় বড় প্রতিশ্রুতিতে ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত জেলা শহরগুলো মুখরিত হবে, কিন্তু রাজপথে মৃত্যুর বিভীষিকা কমেনি।

সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও প্রকৌশলীরা বিভিন্ন সময় বলে আসছেন, কী কারণে সড়কে এভাবে প্রাণ ঝরছে। তাঁরা বলেছেন, চালকদের অকারণ প্রতিযোগিতা ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং, পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ ও চালকদের ঘুমের অভাব, যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন জরাজীর্ণ গাড়ি রাস্তায় নামানো, মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ধীরগতির যান চলাচল এবং মহাসড়কের জ্যামিতিক নকশাগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের তরফে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে এর কোনো প্রতিকার করা হচ্ছে না। ফলে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না।

এই অব্যবস্থার সর্বশেষ নির্মম উদাহরণ নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ার দুর্ঘটনা। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ১২ জন। আহত হন অন্তত ২৫ জন। এই একটিমাত্র ঘটনাই বলে দেয়, দিবসের প্রতিশ্রুতি আর সড়কের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব কতটা।

পুলিশ ও আহতরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার শিকার আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় বাসের চালক ও সহকারী পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলী জানান, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বাসটি পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছায়। সেখানে হোটেলে যাত্রাবিরতি শেষে চালকের আসন থেকে চালক উঠে গেলে সুপারভাইজার সোহেল বাস চালাতে শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দীর্ঘমেয়াদি চিত্র আরও ভয়াবহ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, এ তথ্য শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি। হাসপাতালগুলোর প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা উপেক্ষা করে সড়ককেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেই দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে দেশের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ছিল নৌপথ ও রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এ দুই মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ চলাচল করতেন, আর সড়কপথ ব্যবহার করতেন প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ। সে সময় সড়ক দুর্ঘটনাও তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রভাব এবং সরকারের ভুল নীতির কারণে বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে রেল ও নৌপথকে ক্রমেই সংকুচিত করা হয়। একই সঙ্গে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কনির্ভর করে তোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সড়ক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার চাঁদাবাজির কারণে সড়কে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতি, অযোগ্য যানবাহনকে ফিটনেস সনদ এবং অযোগ্য চালকদের লাইসেন্স দেওয়াসহ নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, সড়কে প্রাণহানির দায় অতীতের সব সরকারকেই নিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে করুণ দিকটি উন্মোচন করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রতিবেদন মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোট ৭ হাজার ৯৬৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু অকালে প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৫৮ জন শিশু মারা গেছে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি, নিয়ন্ত্রণহীন চালানো কিংবা আরোহী হিসেবে। পথচারী হিসেবে বাস, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানের আঘাতে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৮১২ জন শিশুর। আর পরিবারের সঙ্গে বাসে কিংবা অন্য গণপরিবহনে যাত্রী হিসেবে যাতায়াতের সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ ও খাদে পড়ার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ শিশুর। এ ব্যাপারে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ আসলে কর্তৃপক্ষের জানা। দুর্ঘটনার পরিণতি কী ঘটছে, তাও জানা। কিন্তু প্রতিকার নেই। শিশুরা গ্রামীণ সড়কে বেশি হতাহত হচ্ছে। কারণ গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা এবং এই সড়কের যানবাহন কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি মেনে চলে না। সড়ক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও থাকে না। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়ম-নীতি জানে না। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যেমন কোনো উদ্বেগ নেই, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে নীরবে শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। এটা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

সংখ্যার এই চাপের পেছনে রয়েছে যানবাহনের বিশাল বহর। বিআরটিএর খাতাকলমে নিবন্ধিত বৈধ যানবাহনের মোট সংখ্যা ৬৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৭টি। এই মোট নিবন্ধিত যানের সিংহভাগই মোটরসাইকেল, যার সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি, অর্থাৎ মোট যানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার ১১৪টি, সিএনজি ও পেট্রোলচালিত থ্রি-হুইলার অটোরিকশার সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৯টি, পণ্য পরিবহনের পিকআপ ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৩টি, মাইক্রোবাস ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮৮টি, জিপ ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪টি এবং বাস ও মিনিবাস মিলিয়ে মোট ৮৭ হাজার ২৮৫টি। এর মধ্যে বড় দূরপাল্লার ও সিটি বাস ৫৮ হাজার ৫৮৯টি এবং মিনিবাস ২৮ হাজার ৬৯৬টি। ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টরের যৌথ সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬১টি এবং ট্যাক্সিক্যাব, অ্যাম্বুলেন্স, ডেলিভারি ভ্যান ও বিশেষায়িত ট্যাঙ্কার মিলিয়ে সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮২টি।

কিন্তু নিবন্ধিত যানের এই হিসাবের আড়ালে চিত্র আরও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ২০ শতাংশের জন্য দায়ী আনফিট মোটরযান। কোনো প্রকার নিবন্ধন, রুট পারমিট কিংবা ফিটনেস সনদ ছাড়াই সারা দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলছে সাড়ে ছয় লাখ যানবাহন। সরকার নির্ধারিত ইকোনমিক লাইফ, বাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং ট্রাক বা পণ্যবাহী যানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর, পার হয়ে যাওয়ার পরও সারা দেশে প্রায় ৭৫ হাজারের বেশি লক্কড়ঝক্কড়, ব্রেকফেল করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-ট্রাক নিয়মিত মহাসড়কে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও প্রধান শহরগুলোতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৭০ শতাংশের কোনো বৈধ হালনাগাদ ফিটনেস কাগজ নেই। রাজধানীসহ সারা দেশে এখন অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি ও চান্দের গাড়ি অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিআরটিএর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশা চলছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচল করছে, শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ রয়েছে। কিন্তু শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সড়ক নিরাপদ হয় না। প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ, ঝুঁকিভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়। সড়কের নকশা ও নির্মাণ, যানবাহনের নিরাপত্তা, গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের যোগ্যতা, মানসম্মত হেলমেট ও সিটবেল্টের ব্যবহার, পথচারীর নিরাপত্তা এবং রোডক্র্যাশের পর জরুরি চিকিৎসা, প্রতিটি ক্ষেত্রকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সবাই অবগত। কেবল ধারাবাহিক ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবেই কার্যকর প্রতিকার সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্ব পরিসরে জাতিসংঘ ২০২১ থেকে ২০৩০ সালকে নিরাপদ সড়ক দশক ঘোষণা করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহত হওয়ার সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানো। ২০২০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে প্রণীত বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনায় নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, যানবাহনের নিরাপত্তা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২০ ও ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৈঠকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন তিনি। ফলে এই নিরাপদ সড়ক দিবসে প্রশ্ন একটাই, প্রতিশ্রুতি ও ১১১ সুপারিশ কাগজ থেকে নেমে সড়কে কার্যকর হবে কবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসচাপায় পথচারী নিহত, পালিয়েছে ঘাতক বাস, আরেকটি বাস আটক জনতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বাসের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর বলে জানা গেছে।…

জাতীয়

বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূ লিমার মৃত্যু: জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি আটক

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের ছয় দিনের মাথায় লিমা আক্তার (২০) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ…

জাতীয়

বৃষ্টি নেই, তবু হাঁটুপানি: শ্রীপুরে জমে থাকা নোংরা পানিতে নষ্ট হচ্ছে পোশাক, স্কুলে যেতে ভোগান্তি শিশুদের

বৃষ্টি নেই, তবু সড়কে জমে আছে হাঁটুপানি। সেই নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিশুদের, আর একই পথে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন…