বাড়িতে ভোরের অভিযান ছিল ভয় দেখানোর জন্য, অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার ইলহান ওমরের
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে তাঁর বাসায় ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানের পর বুধবার প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভোরবেলার ওই অভিযান ছিল তাঁকে ভয় দেখানোর জন্য এবং এর লক্ষ্য ছিল ভোটারদেরও ভয় দেখিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। এমএস নাউয়ের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে।
ওমরের বর্ণনা অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ভোর ৬টায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের ১০ থেকে ১৫ জন এজেন্ট তাঁর দরজায় জোরে আঘাত করেন এবং তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে কক্ষে কক্ষে তল্লাশি চালানোর পর এজেন্টরা কয়েকটি ফোনসহ মোট ১৭টি জিনিস জব্দ করেন। তিনি বলেন, কেউ সকালের অত ভোরে কারো বাড়িতে যায় না, যদি না তার উদ্দেশ্য হয় তাকে ভয় দেখানো।
ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয় সম্ভাব্য অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তের অংশ হিসেবে। কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে, নাগরিকত্ব পেতে সহায়তা করা কাগজপত্রে ওমর বা তাঁর বাবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না। মার্কিন সীমান্তবিষয়ক উপদেষ্টা টম হোম্যান বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।
ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে যে তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ছদ্ম বিয়ে করেছিলেন এবং অভিবাসন কাগজপত্রে বিবরণ গোঁজামিল দিয়েছিলেন। ওমর এমএস নাউয়ের উপস্থাপক ক্রিস হেইসকে বলেন, ভাইসংক্রান্ত গুজব প্রথম ছড়িয়েছিল একটি সোমালি ব্লগ, পরে মিনিয়াপোলিসের ডানপন্থী ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকরা তা তুলে নেয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল, মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা ও ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব ভিত্তিহীন তত্ত্ব প্রচার করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এই অভিযান ওমর ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা বিরোধের নতুন মাত্রা। ট্রাম্প বারবার ওমরের চরিত্র, ধর্ম ও সোমালি ঐতিহ্য নিয়ে কটূক্তি করেছেন। সবশেষ মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওমরকে দেশকে ঘৃণা করা অসুস্থ ও অত্যন্ত অসৎ ব্যক্তি বলে অভিহিত করেন। অভিবাসন কাগজপত্রে মিথ্যা বক্তব্যের অভিযোগে ওমরকে বহিষ্কার করা হতে পারে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তা হতে পারে, আবার তিনি জেলেও যেতে পারেন।
ওমর মনে করেন, এই অভিযান চালানো হয়েছে ট্রাম্পের অনুগতদের খুশি করতে। তাঁর ভাষায়, অনুগতরা বিশ্বাস হারাতে শুরু করেছিল যে এসব প্রতিশ্রুতি ফাঁকা, তাই প্রশাসনকে কিছু করে দেখাতে হয়েছে, যেন বলা যায়, দেখো, আমরা তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানের পেছনে আরও বড় লক্ষ্য হলো ভোটারদের ভয় দেখানো। তাঁর কথায়, মেট্রো সার্জ, ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা কিংবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কড়া নাড়া, সবকিছুর উদ্দেশ্য একই, সমর্থকদের কাছে কিছু করছেন বলে দেখানো এবং সুনাম বাঁচানো। কারণ, প্রশাসন বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আমেরিকার নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত মানুষ ভোট দিচ্ছে এবং তা ঠিক করা দরকার। সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি বলেন। তাঁর মতে, চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা।
তবে ওমরের দাবি, অভিযান উল্টো ফল দিচ্ছে। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকার দিতে আসার পথে তিনি খবর পাচ্ছিলেন, আগাম ভোটের কেন্দ্রগুলোতে বিশাল লাইন পড়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে সহায়তাকারী তাঁর কর্মীরা বলছেন, সহায়তার জন্য আসা অনুরোধের চাপ সামলানোর সক্ষমতাই তাঁদের নেই। তাঁর বিশ্বাস, অভিযান মানুষকে ভোট দিতে আরও উদ্বুদ্ধ করেছে।
অভিযানের পর থেকে ওমর মূলত জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছিলেন। মঙ্গলবার রাতে একটি প্রচারণা ভিডিওর মাধ্যমে তিনি প্রথম জনসমক্ষে আসেন, তার পরদিন দিলেন এই সাক্ষাৎকার। এর মধ্যে তাঁর স্বামী টিম মাইনেটকে বাসার বাইরে তাঁদের কুকুর নিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। একজন প্রচারণা সহকারীকে খাবার নিয়ে বাসায় ঢুকতে এবং দুই মেয়েকে দুই দিনের ব্যবধানে বাসায় আসতে দেখা গেছে বলেও খবরে বলা হয়েছে।
ফক্স নিউজ হোয়াইট হাউসের মন্তব্য চেয়েছিল, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পায়নি। ফলে অভিযান নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সাক্ষাৎকারে ওমর স্পষ্ট করে বলেন, তাঁকে জেলে পাঠানো, বহিষ্কার করা, এসবই প্রতিপক্ষ চায়। কিন্তু তাঁর মতে, তাদের আরও বড় তৃপ্তি হতো যদি তিনি ক্লান্ত হয়ে নিজেই চলে যেতেন। তিনি তা করবেন না, কারণ কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার আইনি অধিকার তাঁর আছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই তদন্ত ও অভিযান এখন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।





