মার্কিন বিচার বিভাগের ‘অনাগরিক ভোটার’ তালিকা প্রশ্নের মুখে: নমুনা যাচাইয়ে ৪০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো বলে দাবি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত কথিত অনাগরিকদের যে তালিকা মার্কিন বিচার বিভাগ দিয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে জানানো মানুষের ‘উচ্চ শতাংশ’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের কর্মকর্তারা। ছোট একটি নমুনার বিশ্লেষণ থেকেই এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিচার বিভাগ দাবি করেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ ‘সম্ভাব্য’ অনাগরিক হয়েও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। বিভাগটি চায়, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট আলাদা করে রাখা হোক। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যালোচনা বলছে, তালিকাটি ‘অবিশ্বাসযোগ্য’, এবং তাতে থাকা কেউ কেউ নথিতে নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানো বলে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ তাঁরা নাগরিক হতে পারেন।
মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া নথিতে কাউন্টি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা বিচার বিভাগের তালিকার ২০০ জনের ওপর করা ‘প্রাথমিক বিশ্লেষণের’ ফল জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের হিসাবে, ওই ২০০ জনের প্রায় ৪০ শতাংশ ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন, যা নাগরিকত্বের শক্ত প্রমাণ; এবং ৭১ দশমিক ২ শতাংশ নথিতে কোনো ভোটদানের ইতিহাসই নেই।’ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ক্লার্ক কার্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মনিকা ফ্লোরেস তাঁর ঘোষণায় একই চিত্র তুলে ধরেছেন, জন্মস্থান অর্থপূর্ণভাবে উল্লেখ থাকা ভোটারদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মানোর কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক কোটি ৬০ লাখের বেশি ভোট পড়েছিল, এবং কর্মকর্তাদের হিসাবে রাজ্যটিতে বর্তমানে দুই কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটার কিছুটা যাচাইয়ের মুখে পড়েন, যখন তিনি স্বীকার করেন প্রশাসনের তালিকায় সম্ভবত ভুল রয়েছে এবং ‘সেখানে এমন কিছু নাম থাকতে পারে, যাঁরা শেষ পর্যন্ত নাগরিক বলে প্রমাণিত হবেন।’ তাঁর ভাষায়, ‘আমরা নিখুঁত নই, এবং সে জন্যই আমরা ক্যালিফোর্নিয়াকে সহযোগিতা করতে বলেছি। এরাই সেই ব্যক্তি, যাঁদের অনাগরিক হওয়ার বিষয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী।’
বিচার বিভাগের মুখপাত্র কিয়ার্স্টেন পেলস এক বিবৃতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের’ অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করতে পারে না। আমরা ক্যালিফোর্নিয়াকে জানিয়েছি, অনাগরিকরা সম্ভবত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত, এবং আমরা রাজ্যকে বলেছি আমাদের দেওয়া তালিকার ব্যক্তিদের দেওয়া ব্যালটের নাগরিকত্ব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে। রাজ্য তা করতে অস্বীকার করেছে। ফেডারেল আইন এই ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের অনুমতি দেয় না।’
ফ্লোরেস তাঁর ঘোষণায় লিখেছেন, এই ব্যক্তিদের ব্যালট আলাদা করার জন্য বিচার বিভাগ যে প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছে, তা ‘বৈধভাবে নিবন্ধিত ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেছেন, রেজিস্ট্রারকে এই প্রক্রিয়া নিতে বাধ্য করা হলে ‘সম্ভাব্য হাজারো ভোটারের সেই মৌলিক অধিকার বিপন্ন হবে, সেই সঙ্গে নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা, ফলের প্রতি আস্থা এবং নতুন নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতাও।’
এই বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কাছে একটি থাম্ব ড্রাইভ পৌঁছে দেয়, যাতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীদের ‘সম্ভাব্য অনাগরিক’ বলে চিহ্নিত প্রায় ২০ হাজার মানুষের তালিকা ছিল, যাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার কোথাও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। প্রথমে কাউন্টি কর্মকর্তারা অজানা উৎসের থাম্ব ড্রাইভ সরকারি কম্পিউটারে ঢোকানোর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে তালিকাটি খুলতে অস্বীকার করেন। পরের দিন বিচার বিভাগ ইমেইলে একই তালিকার একটি স্প্রেডশিট পাঠায়।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি রেজিস্ট্রার ডিন লোগানের মঙ্গলবারের পৃথক আদালত নথি অনুযায়ী, ২০ হাজার নামের মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৩৫ জনের ঠিকানা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ছিল, এবং কিছু নাম ছিল দ্বৈত।
রাজ্য সরকার মঙ্গলবারের নথিতে বলেছে, বিচার বিভাগ যা চাইছে তা নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে করা অসম্ভব এবং এতে ফেডারেল ও রাজ্য নির্বাচন আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যের ভাষায়, ‘সবচেয়ে ভালোভাবে ধরলেও এই মামলা একটি বেপরোয়া রাজনৈতিক কৌশল। সবচেয়ে খারাপভাবে ধরলে, এটি এই নির্বাচনে হাজারো ক্যালিফোর্নিয়াবাসীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হুমকি তৈরি করে।’ ফেডারেল সরকারের মামলার জবাবেই রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারা এই নথি জমা দিয়েছেন।
ফ্লোরেস লিখেছেন, পর্যালোচনাটি প্রাথমিক এবং মান নিয়ন্ত্রণ এখনো চলছে, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় অক্টোবরের তালিকাটি অবিশ্বাসযোগ্য। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে, ভোট গণনার আগে এই ২০ হাজার নাম নিয়ে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কোন পথে এগোবে।






