আকস্মিক রিয়াদ সফরে ম্যাক্রোঁ, ফ্রান্সের জন্য বাড়তি ডিজেল দেবে সৌদি আরব
আকস্মিক ‘সংহতি’ সফরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই মাসে হুতিদের হামলা তীব্র হওয়ার পর তিনিই প্রথম পশ্চিমা নেতা হিসেবে সৌদি আরবে পা রাখলেন।
রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। বৈঠকে জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে।
এই সফরের সবচেয়ে বড় ফল এসেছে জ্বালানির ক্ষেত্রে। সৌদি আরব ফ্রান্সকে ‘যত মাস প্রয়োজন’ বাড়তি ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে বলে বুধবার এলিসে প্রাসাদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে। তবে বাড়তি ডিজেলের পরিমাণ কত হবে, তা জানায়নি প্রাসাদ।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ফরাসি প্রেসিডেন্সি আগেই বলেছিল, এর লক্ষ্য হলো ‘নিজ ভূখণ্ডে হুতিদের হামলার মুখে রাজ্যটির প্রতি ফ্রান্সের সংহতি প্রদর্শন করা এবং হাইড্রোকার্বন সরবরাহ সুরক্ষিত ও বহুমুখী করার চলমান প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা’।
সফরটির পেছনে ঘরোয়া চাপও বড় ভূমিকা রেখেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে দাঙ্গা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম চড়া থাকায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
উপসাগর সফর নিয়ে দেশে সমালোচনার মুখে ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শুধু ‘নিজের কাজটাই করছেন’, যাতে পেট্রলের দাম নিয়ে ‘উত্তেজনা কমানো’ যায়। পেট্রলের দামই সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, ‘অস্থিরতার কোনো লক্ষণ থাকা চলবে না। আমি আমার ভূমিকা পালন করছি। আমি আমার দায়িত্বের জায়গায় আছি।’
বৈঠকে দুই নেতা নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অবরুদ্ধ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে পরামর্শ চালিয়ে যেতে সম্মত হন বলে প্রাসাদ জানিয়েছে।
সৌদি সরবরাহের আগেই ম্যাক্রোঁর এই উপসাগর সফরে আরও প্রতিশ্রুতি মিলেছে। প্রেসিডেন্সি মঙ্গলবার জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ টন সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, আর বাহরাইন থেকে আরও মাসিক ১ লাখ টন নিশ্চিত করা হবে।
সৌদি সরবরাহসহ ফ্রান্সের মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ এখন মাসে ২ লাখ ৯৫ হাজার টন, যা দেশটির মোট ব্যবহারের ১০ শতাংশের একটু বেশি বলে প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে।
শুধু জ্বালানি নয়, সামরিক ক্ষেত্রেও এগোচ্ছে সহযোগিতা। আগের একটি চুক্তির আওতায় ফ্রান্স সৌদি আরবে সামরিক সম্পদ পাঠাচ্ছে, যাতে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সাহায্য করা যায়। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী আনসার আল্লাহর হামলার শিকার হয়েছে এই বন্দরটি।
যুক্তরাজ্যও মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, রাজ্যটিকে রক্ষায় তারা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে। দুই দেশই বলছে, তাদের এই সহায়তা পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো ইউরোপের জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৌদি তেল রপ্তানিকে সুরক্ষিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সহায়তায় অনীহা দেখানোয় উপসাগরীয় জোটকেও শক্ত করে। তবে একই সঙ্গে এতে দুই ইউরোপীয় দেশ দীর্ঘদিনের সৌদি-হুতি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।





