চায়ের জনপদ মৌলভীবাজারে আবার আলোচনায় কফি চাষের সম্ভাবনা
চা বাগানের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত মৌলভীবাজারে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে কফি চাষের সম্ভাবনা। চায়ের জনপদ হিসেবে খ্যাত এই জেলায় কফির মতো ভিন্ন একটি ফসলের চাষ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় কৃষি অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের পরিচিতি মূলত চা শিল্পকে ঘিরেই। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা চা বাগান এখানকার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান আর সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সেই চিরচেনা ছবির পাশাপাশি কফি চাষের সম্ভাবনা সামনে আসায় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কফি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি পানীয় ফসল। বাংলাদেশে কফির চাহিদা থাকলেও দেশে এর চাষ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে মৌলভীবাজারের মতো কৃষিসমৃদ্ধ জেলায় কফি চাষ সফল হলে তা স্থানীয় কৃষকদের জন্য আয়ের একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি এলাকার আবহাওয়া, মাটি আর পানির সহজলভ্যতা যেকোনো নতুন ফসলের সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। মৌলভীবাজার পাহাড়ি টিলা আর সমতলের মিশেলে গড়ে ওঠা একটি জেলা, যেখানে চা চাষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কফি চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতাকেই বড় সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন ফসল মানেই নতুন করে শেখা, নতুন করে বিনিয়োগ। চারা সংগ্রহ, পরিচর্যা, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ আর বাজারজাতকরণ—প্রতিটি ধাপে প্রস্তুতি দরকার। কফি চাষ নিয়ে আগ্রহ বাড়লে এসব বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসবে।
চায়ের পাশাপাশি আরেকটি অর্থকরী ফসল যুক্ত হলে জেলার কৃষি অর্থনীতি আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে সম্ভাবনা আর বাস্তব সাফল্যের মধ্যে দূরত্ব কমাতে হলে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলক চাষ, ফলন যাচাই এবং বাজার বিশ্লেষণের মতো ধাপগুলো গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। মৌলভীবাজারে কফি চাষ শেষ পর্যন্ত কতটা বিস্তার পায়, তা নির্ভর করবে এসব প্রস্তুতি আর কৃষকদের সাড়ার ওপর।
আপাতত চায়ের জনপদে কফির সম্ভাবনা ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা স্থানীয় কৃষিতে নতুন চিন্তার জানান দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


