ফ্রান্সে সামরিক ঘাঁটির ওপরে সন্দেহজনক ড্রোন, বিচারিক তদন্ত শুরু
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সামরিক স্থাপনার ওপরে সন্দেহজনক ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। বড় পরিসরের সশস্ত্র বাহিনীর মহড়া চলাকালে নৌঘাঁটিসহ কয়েকটি সামরিক এলাকার ওপরে অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর এ ঘটনায় বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে ফরাসি নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলা সশস্ত্র বাহিনীর বড় মহড়ার সময় সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি ও ওপরে, উড়ান-নিষিদ্ধ এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন ধরা পড়ে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত নিরাপত্তাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়; অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ড্রোন-প্রতিরোধী সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে তুলোন শহরের আশপাশের সামরিক এলাকায়। দক্ষিণ-পূর্বের এই শহরে ফ্রান্সের অন্যতম বড় নৌঘাঁটি অবস্থিত, যেখানে দেশটির বিমানবাহী রণতরি শার্ল দ্য গল এবং আক্রমণাত্মক সাবমেরিনগুলো থাকে। ফলে এই ঘাঁটির ওপর ড্রোন ওড়ার ঘটনা নিরাপত্তা মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসি প্রোভঁসের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোনগুলো রাতে নৌঘাঁটি, তুলোনে অবস্থিত অস্ত্র অধিদপ্তরের (ডিজিএ) স্থাপনা এবং ইয়েরের ৫৪তম আর্টিলারি রেজিমেন্টের ওপর দিয়ে উড়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, টাইফন নামের এই সামরিক মহড়াটির উদ্দেশ্যই ছিল ড্রোন দেখা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ। মহড়া চলাকালেই বাস্তবে অননুমোদিত ড্রোন এসে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়া বাস্তবে প্রয়োগ করতে হয়েছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, কোনো সংবেদনশীল অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েনি। সশস্ত্র বাহিনী ও ভেটেরানবিষয়ক মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে মনে করিয়ে দিয়েছে, সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি বা ওপরে অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
শুধু ফ্রান্স নয়, ডেনমার্ক ও জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে সামরিক স্থাপনা ও প্রতিরক্ষাশিল্পের কারখানার কাছাকাছি সন্দেহজনক ড্রোন ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে মিউনিখে কেএনডিএস কারখানার ওপরে মানববিহীন আকাশযান ওড়ানোর অভিযোগে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে এক মলদোভীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এ ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের কয়েকটির জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়; ইউরোপের দেশগুলোর বিরুদ্ধে মস্কো হাইব্রিড আক্রমণ জোরদার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তুলোনের ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি; বিচারিক তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
একের পর এক ড্রোন দেখা দেওয়ার ঘটনায় ইউরোপজুড়ে সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আকাশসীমা সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও নজরদারি আরও জোরদার করার চাপ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের ওপর।




