সাবেক ক্লাব লাইপজিগের মুখোমুখি রিয়ালের দিওমান্দে, তারকাদের ভিড়েও আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ উইঙ্গার
রেকর্ড ১৪ কোটি ইউরোয় রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া ইয়ান দিওমান্দের জন্য ম্যাচটি বিশেষ কিছু। যে আরবি লাইপজিগে খেলে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন, সেই ক্লাবের বিপক্ষেই এবার রিয়ালের জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।
শুরুতে প্রত্যাশার চাপ সামলাতে কিছুটা সময় লাগলেও ধীরে ধীরে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন আইভরি কোস্টের এই তরুণ। সেভিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলের পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর দিকেই থাকবে বাড়তি নজর।
গত গ্রীষ্মে দিওমান্দেকে দলে টানতে ক্লাব ইতিহাসের রেকর্ড অর্থ খরচ করে রিয়াল। বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই টানা দুই মৌসুম কাটানোর পর দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনায় তরুণ এই প্রতিভাকে দলে টানেন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
তবে তারকায় ঠাসা আক্রমণভাগে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না দিওমান্দের জন্য। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় করে দলীয় ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শুরুর দিকে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখালেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাকা করতে পারেননি দিওমান্দে। ১০ অক্টোবর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রিয়ালের হয়ে প্রথম গোল করেন তিনি।
এরপর সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি আরদা গুলেরের গোলেও অবদান ছিল তাঁর। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে করা তাঁর গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে এখন তাঁর গোল দুটি, সঙ্গে তিনটি গোলে সহায়তা। সংখ্যায় বড় না হলেও মাঠে প্রভাব বাড়ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
রিয়াল কোচ জোসে মরিনিওর বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিণত হয়ে উঠবেন দিওমান্দে। তাঁর ভাষায়, ‘ওর উন্নতির অনেক জায়গা আছে। বয়স কম, এখনো কিছুটা অপরিণত। পুরোপুরি তৈরি নয়। তবে ও দারুণ খেলেছে, উন্নতিও করছে।’
প্রতিভার প্রমাণ অবশ্য রিয়ালে আসার আগেই দিয়েছেন দিওমান্দে। স্পেনের লেগানেসে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর জার্মানির লাইপজিগে কাটান দুর্দান্ত এক মৌসুম। ক্লাবটির হয়ে ৩৬ ম্যাচে ১৩ গোল করার পাশাপাশি আটটি গোলে সহায়তা করেন তিনি।
তাঁর পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে লাইপজিগ। বুন্দেসলিগায় বর্ষসেরা নবীন খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পান এই তরুণ, যা তাঁর সম্ভাবনার বড় স্বীকৃতি।
মাঠের বাইরের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাও দিওমান্দেকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। ২০২৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মারা যান তাঁর বোন রোক্সানে। তাঁকে নিয়ে লেখা এক খোলা চিঠিতে দিওমান্দে জানিয়েছিলেন, সবাই যখন তাঁর স্বপ্ন নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন বোনই বিশ্বাস করতেন, একদিন তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবেন। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার অঙ্গীকারও করেছিলেন তিনি।
রিয়ালের হয়ে এখন সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দিওমান্দের। মরিনিও ভিনিসিয়ুসের উদাহরণ টেনে মনে করিয়ে দিয়েছেন, সময় ও সুযোগ পেলে তরুণ খেলোয়াড়েরাও নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারেন।
এবার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে দিওমান্দে কতটা আলো ছড়াতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল-লাইপজিগ ম্যাচের রাতে জার্মানির আরেক দল বায়ার্ন মুখোমুখি হবে ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের।




