নওগাঁয় কানের দুলের লোভে বড় বোনকে হত্যার অভিযোগ, ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫
নওগাঁর ধামইরহাটে স্বর্ণের কানের দুলের লোভে বড় বোন হালিমা বেগমকে (৬৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে পুকুরপাড়ের নিচু স্থানে রেখে আসা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও তার স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত হালিমা বেগমের ছোট ভাই মজনু (৫৬), তার স্ত্রী হোসনেয়ারা, আমিনুর রহমান (৩৯), রবিউল ইসলাম (৩৯) ও মোশারফ হোসেন (৪২)। তাদের কয়েকজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ অক্টোবর ধামইরহাট উপজেলার সিলিমপুর (তালবন) গ্রামের বাড়ির সামনের ধানখেতে হালিমা বেগমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সেদিনই ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী হালিমা বেগমকে ঘর থেকে ডেকে বের করা হয়। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে ধানখেতের পেছনে নিয়ে রশি দিয়ে গলা চেপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর হালিমা বেগমের কানের দুল নিতে তার দুই কানের লতি কেটে ফেলা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পুকুরপাড়ের একটি নিচু স্থানে রেখে আসেন অভিযুক্তরা। এ সময় তার হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয় এবং ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে মুখমণ্ডল বিকৃত করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা রশি, ওড়না ও ভোঁতা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে নতুন তথ্য পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বোনকে হত্যার মতো এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয় এবং আদালতে মামলার পরবর্তী ধাপে কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে স্থানীয়দের।





