সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় আরও এক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, ‘শুটার শামীমের’ ভাগনে পুলিশ হেফাজতে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার মামলায় আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন (২১) নামে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ এসআরবি-১৪ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। গ্রেপ্তার আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন দুর্গাপুর পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকার কাচারির মোড়ের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়ার ছেলে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার প্রাঙ্গন এলাকায় ‘শুটার শামীম’ নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর ভাগনে। শুটার শামীমের বিরুদ্ধে থানায় কমপক্ষে তিনটি হত্যা মামলাসহ অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে।
ওসি বলেন, প্রাঙ্গন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।
এসআরবি সূত্র জানায়, সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে এসআরবি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় দুর্গাপুর শহরের শহীদ মিনার এলাকা থেকে প্রাঙ্গনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ এসআরবি-১৪-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না, তবে এতটুকু বলতে পারি ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করে গ্রেপ্তার প্রাঙ্গনকে এই ঘটনার অন্যতম আসামি হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।’
নিহত আলিফ ফকির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।
এর আগে ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারের তেলঞ্জিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৬ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ১৮ অক্টোবর অপূর্ব (২২) নামে সন্দেহভাজন এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এখন অপূর্ব চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চলছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নেত্রকোনা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনেক সময় অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে আসামিদের গ্রেপ্তারে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
প্রাঙ্গন গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলাটিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়ল। তদন্তে নতুন করে আর কারও নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও নিহতের পরিবারের।



