যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের মামলায় এবার গ্রেপ্তার কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও একজন সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার সোহাগ ফকির (৩৮) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত।
বুধবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডি। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগ ফকিরের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রাজৈরে অভিযান চালানো হয় এবং তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার সোহাগ ফকিরের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে সহকারী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। ওই দিন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষাটি স্থগিত করে দেওয়া হয়।
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পরদিন ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলাটি করা হয় পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৫০-এর ৪, ৫ ও ৯ (ক) ধারায়।
সেই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় একের পর এক নাম উঠে আসছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার সোহাগ ফকিরকে সেই মামলার আসামি হিসেবেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া নিয়োগ পরীক্ষাটি আবার কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন অনেক প্রার্থী।
তদন্ত শেষ হলে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে গিয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আপাতত গ্রেপ্তার কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়াই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।





