উচ্চশিক্ষায় ৩৪ বছর পূর্ণ করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ২,৩১৮ কলেজে পড়ছেন প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী
উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও কলেজ শিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ৩৭ নম্বর আইন পাসের পরদিন গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের তরুণ-তরুণীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির অবদান উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন — জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে এটি উচ্চশিক্ষাকে পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ পরিবারের দোরগোড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ জানান, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১৮টি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন এক লাখেরও বেশি। দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় — সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় কাঠামো।
বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে পড়াশোনা করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকে দেশে-বিদেশে শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন শিক্ষাক্রমের আধুনিকীকরণে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি, সেশনজট নিরসন ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণেও কাজ চলছে — দীর্ঘদিনের সেশনজট এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান ভোগান্তি, তাই এই খাতের অগ্রগতির দিকে সবার নজর থাকে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ও নগর কার্যালয়ের প্রধান ফটক এবং ভবনগুলোতে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
৩৪ বছরের এই যাত্রায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার গণমুখী সম্প্রসারণের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন ও সেশনজট নিরসনে ঘোষিত উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী অধ্যায়ের সাফল্য।




