চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী: ‘সবার একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি’, পূজা পরিষদকে ২০ লাখ টাকার অনুদান
রংপুর ও রাজশাহী সফরের পর এবার চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর রহমতগঞ্জে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি। একই সঙ্গে তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদকে ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রধানরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
বিমান থেকে নামার পর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সবার নজর কাড়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতি।
একপর্যায়ে শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে করমর্দন করার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত।’ বিরোধী রাজনৈতিক ধারার একজন সংসদ সদস্যের এই সৌজন্যমূলক উপস্থিতি অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
করমর্দনের একপর্যায়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ এ সময় মাসুদ আলম ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক সম্ভাষণ উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে যান। শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেই তার এই পরিদর্শন।
জে এম সেন হলের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি। তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান। একই অনুষ্ঠানে তিনি পূজা উদ্যাপন পরিষদকে ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয়—তারা সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক ‘বাংলাদেশি’। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে উপমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলে আমরা সব সময় এসেছি। কিন্তু আমাদের আগেও কেউ কেউ এখানে এসেছে। তারা বলেছে, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকেন। আমরা একটি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আলাপ করেছি, তারা আমাদের ক্ষমতায় রাখবেন, আপনাদের ওপর ভরসা করে। আমরা সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’
চট্টগ্রামের পর প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের এই ধারাবাহিক সফরকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহীর পর বন্দরনগরীতে এসে তিনি একই বার্তা দিলেন—সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর তার রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় এই সভা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
দুর্গোৎসব ঘিরে সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হলো। সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।




