বিদেশের মাঠে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ দক্ষতা নয়, মানসিকতা: তানজিদ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় হার, ব্যাটারদের টানা ব্যর্থতা আর আফগানিস্তান ম্যাচের আগে কঠিন সমীকরণ—সব মিলিয়ে চাপের সময় পার করছে বাংলাদেশ দল। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। দলের সঙ্গে আলোচনায় তিনি ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিটি ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। জাতীয় দলের ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিমের ভাষায়, বিদেশের মাঠে ব্যাটিং ব্যর্থতার মূল কারণ দক্ষতা নয়, মানসিকতা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। অথচ পরের ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে জিম্বাবুয়ে। ফলে সিরিজের সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্স মাঠে বসেই দেখেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ম্যাচ শেষে তিনি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেই আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম।
তানজিদ বলেন, সভাপতির সঙ্গে খুব ভালো একটি বৈঠক হয়েছে। তার ভাষায়, বিসিবি ভালো ও খারাপ—সব সময়ই দলের পাশে থাকে। বৈঠকে ক্রিকেটাররা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে এবং সভাপতি সবাইকে আরও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।
দলকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে তানজিদ আরও বলেন, সবাই চান এই পরিবারের মধ্যে যেন নেতিবাচক কিছু তৈরি না হয়। সভাপতি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, যাতে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারে এবং দল হিসেবে প্রতিটি ম্যাচে ভালো পারফর্ম করতে পারে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে হোক কিংবা অস্ট্রেলিয়া—প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলাররা তুলনামূলক ভালো করলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচটি হাতছাড়া হয়। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে পেসার তাসকিন আহমেদের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তানজিদও। তার মতে, বড় লক্ষ্য তাড়া করার চাপ না নিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য ধরে এগোলে ব্যাটারদের জন্য কাজটি সহজ হবে।
তানজিদ বলেন, বিষয়টি অবশ্যই মানসিকতার ব্যাপার। শুরু থেকেই ৩০০ বা ৩৫০ রানের কথা না ভেবে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে খেললে কাজটা সহজ হবে, আর মানসিকতাও সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও দেশের বাইরে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের। তানজিদের বিশ্বাস, সমস্যাটি কেবল দক্ষতার নয়; এর সঙ্গে মানসিকতা, প্রস্তুতি ও দল হিসেবে খেলার সম্পর্ক রয়েছে।
তার ভাষায়, দক্ষতার সমস্যা হলে দল ঘরের মাঠেও ভুগত। দেশে যেভাবে খেলা হয়, একই মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে বিদেশেও খেলতে পারলে ভালো করা সম্ভব। সেজন্য দল হিসেবে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামতে হবে।
এখন সবার চোখ বুধবারের (২১ অক্টোবর) ম্যাচের দিকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সেদিন আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আর ব্যাটারদের মানসিকতার পরীক্ষাটাও হবে সেই ম্যাচেই।



