সাফে প্রথমবার ভিএআর: বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ছয় জাতির চ্যাম্পিয়নশিপ, ভারত আসছে নিশ্চিত করল সাফ
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে রেফারিং নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নিরসনে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। আগামী মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি ব্যবহারের জোর প্রস্তুতি চলছে।
সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এই আসরের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে প্রযুক্তির এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার টুর্নামেন্টগুলোতে সন্দেহজনক অফসাইড, ফাউল কিংবা বিতর্কিত পেনাল্টি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিয়মিত দেখা যায়। মাঠের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এই অঞ্চলের ফুটবলের চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন এই অঞ্চলের কোনো প্রতিযোগিতায় ভিএআর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এবার সেই বাধা পেরোনোর চেষ্টা চলছে।
মাঠের ফুটবলে পূর্ণ স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্রযুক্তি চালুর সর্বাত্মক প্রয়াস চালাচ্ছে আঞ্চলিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
আসন্ন টুর্নামেন্ট ঘিরে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি গুঞ্জনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেছে সাফ কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে খবর রটেছিল, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত হয়তো এবারের আসর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
তবে সাফের সাধারণ সম্পাদক সেই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো অনিশ্চয়তা ছাড়াই ভারত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে এবং এ সংক্রান্ত প্রচারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে পর্দা উঠবে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। ছয় জাতির এই টুর্নামেন্ট ঘিরে স্বাগতিক দর্শকদের প্রত্যাশাও তাই বাড়ছে।
গ্রুপ ‘এ’-তে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে লড়বে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।
আধুনিক ভিএআর প্রযুক্তির সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি এবং দলগুলোর শক্তিমত্তা মিলিয়ে এবারের আসরটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সব ঠিক থাকলে নভেম্বরের এই আসর শুধু একটি আঞ্চলিক শিরোপার লড়াই থাকবে না—দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ রেফারিংয়ের যুগের সূচনাও হতে পারে বাংলাদেশের মাটিতেই।




