নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি: আন্তজেলা দলের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১২ লাখ টাকার মালামাল
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানসহ চারটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের আট সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন। পুলিশের হিসাবে উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন। ব্রিফিংয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. শাকিল সরকার (২৬), মো. রুহুল আমিন (৩৫), মো. রাশেদ মিয়া (৩০), মো. রবিউল প্রধান (৩৫), মো. সাজ্জু মিয়া (৫৩), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২), মো. শাহিন মিয়া (৩০) ও মো. মিরাজ মিয়া (২৬)। তাঁদের বাড়ি গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায়, তবে দলটি জেলার বাইরে থেকে এসে দিনাজপুরে ডাকাতি করেছে বলেই ‘আন্তজেলা দল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় একদল ডাকাত সড়কে চলাচলরত যানবাহনে ডাকাতি করে।
ডাকাতেরা সড়কে গাছ ফেলে যানবাহন থামিয়ে চালক, সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় ভুক্তভোগীদের মারধর করে তাঁদের মালামাল লুট করা হয়। কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানসহ মোট চারটি গাড়ি এই ডাকাতির শিকার হয়।
ঘটনার পর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের আট সদস্যকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের বিবরণে পুলিশ জানিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে দুটি এইচপি ল্যাপটপ; ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন; একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন; একটি চাপাতি ও একটি ছুরি। অস্ত্র দুটি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, এই ডাকাতির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ, আটজন গ্রেপ্তার হলেও তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না; দলের বাকি সদস্যদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করে ডাকাতির এই ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।




-ee29ba.png)
