৬৭৮ কোটি টাকার সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা একদিনের রিমান্ডে
চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা কেনাবেচা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা দিলীপ আগরওয়ালাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আদালতে হাজির করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার সুনির্দিষ্ট ঘটনা উদঘাটন, সোনা ও হীরার প্রকৃত উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং মানিলন্ডারিংয়ের পরিধি নির্ধারণে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার কবীর বাবুল রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাচালানে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার ও লুজ ডায়মন্ড বৈধভাবে আমদানি করা হয়। অথচ একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সিআইডির অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এর উৎস ও সরবরাহের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি অভিযুক্তরা—আর এই অসঙ্গতির সূত্র ধরেই চোরাচালান ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিমান্ডের এক দিনে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সোনা ও হীরার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে।
মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। রিমান্ড শেষে আসামিকে আবার আদালতে হাজির করা হবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



-ee29ba.png)


