মেসির বিদায়ে স্মৃতিকাতর দেমিচেলিস, ‘শেষবারের মতো বলেছিলাম, উপভোগ করো’
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন তাঁর সাবেক সতীর্থ মার্তিন দেমিচেলিস। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়কের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে তাঁর নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব ও ফুটবলে অবদানের প্রশংসা করেছেন লাইপজিগের এই কোচ।
আর্জেন্টিনার হয়ে একসঙ্গে খেলার সুবাদে মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল দেমিচেলিসের। তারকা ফরোয়ার্ডের বিয়েতেও আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন তিনি। সেই ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও নিয়মিত বার্তা পাঠিয়ে বন্ধুকে বিরক্ত করতে চাইতেন না দেমিচেলিস।
দেমিচেলিসের ধারণা, প্রতিদিনই লাখ লাখ বার্তা পান মেসি। তাই সাবেক সতীর্থ হিসেবে সংযম দেখানোই তিনি যথাযথ মনে করতেন। তবে একটি মুহূর্তে সেই সংযম ভেঙে বার্তা পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মেসিকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন দেমিচেলিস। সেই ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে মেসির নেতৃত্ব এবং দলের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতা জাগিয়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল।
দেমিচেলিস বলেন, ‘সে সময় জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে লিওর খুব ঘনিষ্ঠ সতীর্থ ছিলাম আমি। লিও যখন বিয়ে করে, তখন আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলাম আমি। মেসিকে বারবার বার্তা পাঠিয়ে বিরক্ত করতে কখনোই চাইতাম না। কারণ, আমার ধারণা, প্রতিদিনই সে লাখ লাখ বার্তা পায়।’
সেমিফাইনালের পর পাঠানো বার্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও সে যেভাবে অসাধারণভাবে দল ও অধিনায়ক হিসেবে নিজের ভেতরের তাড়নাকে কাজে লাগিয়েছে, তাতে তাকে অভিনন্দন জানানোর প্রয়োজন অনুভব করেছিলাম।’
মেসির দৃঢ়তা, আকাঙ্ক্ষা ও বয়স দেমিচেলিসকে বিস্মিত করেছিল। তাঁর ভাষায়, ‘তার সেই দৃঢ় বিশ্বাস, দৃষ্টি, আকাঙ্ক্ষা, আর সবচেয়ে বড় কথা, তার বয়স... অবিশ্বাস্য! আমার মনে হয়েছিল, তাকে শেষবারের মতো বলি, উপভোগ করো। এরপর কী হবে, তা নিয়ে ভাবার দরকার নেই।’
মেসির বিদায়ী ম্যাচে অবশ্য উপস্থিত থাকতে পারেননি দেমিচেলিস। জার্মানিতে কোচিংয়ের দায়িত্ব থাকায় বুয়েনস এইরেসে যাওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর। সেই অনুপস্থিতির আক্ষেপ তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে দূরে থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে মেসিকে ঘিরে প্রকাশিত ভিডিও ও পুরোনো মুহূর্তগুলো দেখেছেন তিনি। সেই ছবি-ভিডিওই তাঁর স্মৃতিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছিল।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির বিদায়ের দিনটির কথা স্মরণ করে দেমিচেলিস বলেন, ‘যখন সে অবসরের ঘোষণা দিল এবং বিদায়ের দিনটি এল, তখন অন্য সব আর্জেন্টিনানের মতো আমিও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভিডিও ও পুরোনো মুহূর্ত দেখতে শুরু করেছিলাম।’
কাজের কারণে বিদায়ী ম্যাচে থাকতে না পারার প্রসঙ্গে তিনি এক ধরনের দ্বিমুখী অনুভূতির কথাও বলেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কাজের কারণে সেখানে থাকতে পারিনি। একদিক থেকে এ জন্য কৃতজ্ঞও আমি। কারণ, এর অর্থ হলো, আমি একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। কিন্তু একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে, তার সাবেক সতীর্থ হিসেবে, স্মৃতির আবেগ আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল।’
দেমিচেলিসের এই স্মৃতিচারণায় মেসি শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলার হিসেবেই আসেননি, এসেছেন একজন অধিনায়ক হিসেবেও — যিনি বয়সকে উপেক্ষা করে দলকে সামনে থেকে টেনে নেওয়ার তাড়না শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন।
মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হওয়ার পর তাঁর সাবেক সতীর্থদের এমন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া আরও আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। দেমিচেলিসের কথায় সেই বিদায়ের আবেগই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা দিল — কৃতজ্ঞতা, বিস্ময় আর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের টান একসঙ্গে।




