আজ মহানবমী: যজ্ঞ আর ঢাকের তালে উৎসবের চূড়া, মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি
শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহানবমী। যাগযজ্ঞ আর ঢাকের তালে সকাল থেকেই দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসব পৌঁছেছে চূড়ায়। তবে নবমীর এই আনন্দের পাশাপাশি বাজছে বিদায়ের সুরও— কারণ আগামীকাল বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।
নবমীর সকালে মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে বিশেষ পূজা ও যজ্ঞের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য আর ধূপ-দীপের গন্ধে মুখর হয়ে উঠেছে পূজাপ্রাঙ্গণগুলো। সকাল থেকেই দর্শনার্থী ও ভক্তদের ভিড় জমেছে প্রতিটি মণ্ডপে।
শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব হলেও এর আবহ ছড়িয়ে পড়েছে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে। নতুন পোশাকে সেজে পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাজারো মানুষ; শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের প্রার্থনায় মিলেমিশে তৈরি হয়েছে সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি।
এবারের পূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি চলছে। ছুটির আমেজে রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম থেকে শহরে। প্রতিমা দর্শন, আড্ডা আর উৎসবের খাবারে কাটছে ছুটির দিনগুলো।
উৎসবের এই আমেজে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন বিভাগের সফরে রয়েছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি নিয়ে তিনি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করছেন। সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়; রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন ও রাজশাহীতে ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি মাদরাসা মাঠে জনসভায় ভাষণের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে উৎসবকালীন সম্প্রীতির বার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
উৎসবের আনন্দে শামিল হয়েছেন বিনোদন জগতের তারকারাও। ঢালিউড অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী অষ্টমীর রাতে (১৯ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন নিজের পূজার সাজের ছবি আর হৃদয়ছোঁয়া সম্প্রীতির বার্তা।
কখনো গোলাপি শাড়িতে সোনালী পাড়ের ঐতিহ্যবাহী কাতান শাড়ি আর ভারী সোনার গয়নায়, আবার কখনো লাল-কালো সাজে— দেবী প্রতিমার সামনে হাস্যোজ্জ্বল ও ভক্তিমগ্ন মেজাজে ধরা দিয়েছেন তিনি। অন্য একটি প্রোফাইল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর পারিবারিক মুহূর্তের ছবিও প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্দিরা লিখেছেন, “শুভ্র আলো, শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের তালে আবারও ধরায় আগমন মা দুর্গার। মায়ের চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম। তাঁর আশীর্বাদে পৃথিবী থেকে মুছে যাক সব অশুভ শক্তি, দূর হোক দুঃখ-কষ্ট, ঘুচে যাক সব অন্ধকার। প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক ভালোবাসা, শান্তি, সম্প্রীতি আর আনন্দে। মা দুর্গা সবার জীবনে বয়ে আনুন সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও অফুরন্ত মঙ্গল। জয় মা দুর্গা! শুভ শারদীয়া।” তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তা ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় ভেসে যাচ্ছে।
নবমীর দিনজুড়ে মণ্ডপগুলোতে থাকছে বিশেষ আয়োজন। রাত পোহালেই দশমী— দর্পণ বিসর্জন ও প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেবেন মা দুর্গা। সেই বিদায়ের প্রস্তুতি আর শেষ মুহূর্তের আনন্দে আজকের দিনটি কাটাচ্ছেন ভক্তরা।
সব মিলিয়ে মহানবমীর এই দিনটি যেন আনন্দ আর বিষাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন— উৎসবের চূড়ান্ত উচ্ছ্বাসের মধ্যেই প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা, আর পাশে থেকে সেই আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছে সব ধর্মের মানুষ।




