রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী: পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, সড়কের দুই পাশে মানুষের ঢল
শারদীয় দুর্গাপূজার মন্দির পরিদর্শনে রংপুরে পৌঁছে ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর ১২টার দিকে তিনি মন্দিরে পৌঁছান এবং পূজারি ও ভক্তদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে সড়কপথে বিশেষ বাসে করে বিভাগীয় নগরী রংপুরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম রাজধানীর বাইরে রংপুরের দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে এলেন কোনো সরকারপ্রধান — এই দিক থেকে সফরটি স্থানীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থিত ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে পূজারি ও ভক্তদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পর পাশেই কালী মন্দির পরিদর্শন শেষে ফের সড়কপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। রংপুর পর্ব শেষ করে সেখান থেকেই পরবর্তী গন্তব্যের কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখতে নগরীর সড়কের দুই পাশে মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল। চলন্ত বহর থেকে হাত নেড়ে রংপুরবাসীকেও অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান — উৎসবের দিনে এই দৃশ্য নগরজুড়ে উৎসাহ ছড়িয়ে দেয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। ব্যানার-ফেস্টুন আর নানা সাজে সাজানো হয়েছে নগরীকে, উৎসব ও রাষ্ট্রীয় সফরের আবহ মিলিয়ে শহরজুড়ে ছিল অন্যরকম আমেজ।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনকৃত নগরীর এই মন্দির দুটিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মন্দির এলাকায় সাধারণ ভক্তদের চলাচলের মধ্যেই এই কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।
একই দিন সকালে রংপুরে আসার পথে সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি ও ক্রীড়াসামগ্রী উপহার দেওয়ার ঘটনা এবং পাগলাপীরে পথসভায় ‘সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া হবে’ — প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর মন্দির পরিদর্শনকে সেই সম্প্রীতির বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
দিনের বাকি কর্মসূচি অনুযায়ী, রংপুর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে আকাশপথে রাজশাহী যাবেন প্রধানমন্ত্রী; রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
দুর্গোৎসবের চূড়ান্ত পর্বে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্দির পরিদর্শনকে ঘিরে রংপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। পূজামণ্ডপে সরকারপ্রধানের উপস্থিতি উৎসবের নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও জোরদার করবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
আপাতত রংপুর পর্ব সুষ্ঠুভাবে শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বহর সৈয়দপুরের পথে — দিনের বাকি দুই বিভাগের কর্মসূচির দিকেই এখন সবার নজর। তিন বিভাগে এক দিনের এই সফর রাতেই ঢাকায় ফেরার মধ্য দিয়ে শেষ হবে।




