‘প্যারিস শিগগিরই মুসলিম নগরীতে পরিণত হবে’— ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে ম্যাক্রোঁকে ট্রাম্পের কড়া আক্রমণ
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ, সংঘাত ও লুটপাটের ঘটনার জন্য অভিবাসন নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বিদ্যমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে প্যারিস অচিরেই একটি ‘মুসলিম নগরী’তে রূপান্তরিত হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই বক্তব্যের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সীমানা সুরক্ষিত না রেখে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফ্রান্সে মানুষের প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে ফরাসি প্রশাসনের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের বহু দেশ থেকে মানুষ ফ্রান্সে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছে, যার ফলে প্যারিস অতি দ্রুত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বদলে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এই ধারা চলতে থাকলে ফরাসি রাজধানীর চরিত্রই বদলে যাবে।
ম্যাক্রোঁর সঙ্গে পূর্ব সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, প্রায় আট-নয় বছর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রথম আলোচনার সময়ই তিনি একটি বড় ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফ্রান্সের নেওয়া অবস্থান একেবারেই সঠিক ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নীতির সঙ্গে ফ্রান্সের পদক্ষেপের তুলনা টেনে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেও প্যারিস তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশটির সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার মূলে রয়েছে তাদের শিথিল অভিবাসন নীতি।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক অস্থিরতা, সংঘাত ও লুটপাটের ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
তবে চলমান এই বিশৃঙ্খলার পেছনে কেবল অভিবাসন নীতিই এককভাবে দায়ী কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ, যুব বেকারত্ব ও পুলিশি আচরণ নিয়ে ক্ষোভের মতো বিষয়গুলোও এই অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাঁর দীর্ঘদিনের অভিবাসন-বিরোধী অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা। নিজ দেশে কঠোর সীমান্ত নীতি বাস্তবায়নকারী ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের উদার অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছেন বহুদিন ধরেই।
ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
ফ্রান্সের অস্থিরতা কবে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে ইউরোপজুড়ে চলা বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।





