…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › স্বাস্থ্য › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
স্বাস্থ্য

যশোরের সাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তৃতীয়াংশ পদই শূন্য, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই শূন্য পড়ে আছে, অথচ রোগীর চাপ শয্যাসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাতটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত মোট ১ হাজার ৩৯৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৪১ জন। শূন্য রয়েছে ৪৫৭টি পদ, যা মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ।

চিকিৎসকের সংকট আরও প্রকট। সাত কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত ২৮৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৬৭ জন — অর্থাৎ ১২০টি চিকিৎসক পদই খালি। এই ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত রোগীর চাপ, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা।

সংকটের চিত্রটা এমন: কোথাও অ্যানাস্থেশিয়া চিকিৎসক থাকলেও তাকে নিয়মিত পাওয়া যায় না, কোথাও আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন থাকলেও তা পরিচালনার জন্য চিকিৎসক নেই। আবার কোথাও প্যাথলজি বিভাগ চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই, এক্স-রে ও আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিনও অচল পড়ে আছে। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা জেলা শহরে।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন ৯০ থেকে ১০০ রোগী। তাদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এখানে চিকিৎসকের ৪৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন বলে তথ্যে উল্লেখ রয়েছে; তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আহসানুল মিজান রুমীর ভাষ্য অনুযায়ী কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা ২৪ জন।

রুমী জানান, এই হাসপাতালে শুধু সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। কিন্তু অ্যানাস্থেশিয়া চিকিৎসকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন থাকলেও তা পরিচালনার জন্য কোনো চিকিৎসক নেই। হাসপাতালের মোট ২২১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২৭ জন; শূন্য ৯৪টি পদ।

একই ধরনের সংকট মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। সেখানেও ৫০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি থাকেন ৯০ থেকে ১০০ রোগী। চিকিৎসকের ৪৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৬ জন। হাসপাতালের ২৪৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত ১৬৯ জন, শূন্য ৭৮টি।

মণিরামপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শয্যার তুলনায় রোগী বেশি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী। চিকিৎসকের ৩৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৪ জন। হাসপাতালের মোট ১৩৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১১০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালে আরও জনবল প্রয়োজন।

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৯ জন। জনবল সংকটের কারণে এখানে সপ্তাহে মাত্র একদিন — বৃহস্পতিবার — সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

ঝিকরগাছার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুর রশিদ বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেই সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক থাকলেও তিনি সপ্তাহে তিন দিন ঝিকরগাছায় দায়িত্ব পালন করেন; একই সঙ্গে তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করতে হয়। এক্স-রে ও আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সেগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই।

চৌগাছা, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, শার্শা, মণিরামপুর ও কেশবপুর — এই সাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই মিলেছে এই চিত্র। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব আর অচল যন্ত্রপাতি মিলে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট।

এই অবস্থায় সাধারণ রোগীদের ভোগান্তিই সবচেয়ে বেশি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর জটিল চিকিৎসার জন্য তাদের বাড়তি খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, কিংবা দূরের জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে উপজেলা পর্যায়ের এই সেবা সংকট আরও গভীর হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

স্বাস্থ্য বিভাগের আরও খবর

স্বাস্থ্য

নীরবে বছরের পর বছর বাড়ে ফুসফুসের ক্যানসার: কারা স্ক্রিনিং করাবেন, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ফুসফুসের ক্যানসার বছরের পর বছর ধরে কোনো লক্ষণ ছাড়াই নীরবে বেড়ে উঠতে পারে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ধরা পড়লে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় …

স্বাস্থ্য

২২ শয্যার ওয়ার্ডে ১৪৫ শিশু রোগী: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বারান্দায় চলছে চিকিৎসা

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা মাত্র ২২টি, অথচ ভর্তি রয়েছে ১৪৫ জন শিশু রোগী—ধারণক্ষমতার প্রায় সাত গুণ। শয্যা তো দূরের কথা, মেঝেতেও জ…

স্বাস্থ্য

লিভার রোগ নির্ণয়ে আকিজ মেডিপ্লেক্স ও কেএনএস কানাডার চুক্তি, ফাইব্রোস্ক্যানে জোর

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগের আধুনিক রোগনির্ণয় ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেড ও কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স…