…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আবহাওয়া ও পরিবেশ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আবহাওয়া ও পরিবেশ

পায়রা রক্ষার ১৩৮ কোটির ব্লকে লবণাক্ত বালুর অভিযোগ: টেকসই নিয়ে শঙ্কায় আমতলীর বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১৩৮ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে চলা ব্লক নির্মাণকাজে লবণাক্ত ও নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্ধারিত মানের বালু ব্যবহার না করলে নির্মিত ব্লক দ্রুত ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আর ব্লক টেকসই না হলে ভাঙনপ্রবণ পায়রাপারের বসতি ও ফসলি জমি রক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ ১৩টি প্যাকেজে পায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। এই চারটি প্যাকেজের দরপত্র মূল্য মিলিয়ে দাঁড়ায় ১৩৮ কোটি ৪৮ লাখ ৩২ হাজার ১৭৬ টাকা — যার প্রতিটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, দরপত্রে উল্লেখ আছে ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং তার এফএম মান হবে ২.০০-এর ওপরে। অভিযোগ, ওই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। গত বুধবার তাদের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিষয়টি পাউবোকে জানালেও তারা অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকশন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার কাজ শুরু করেছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয় হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টও একই সুরে বলেন, ‘পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক যে বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে, ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশি দিন টিকবে না।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেকের অবস্থান ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, ‘বালুর এফএম মান চেক করে ফিল্ডে নামিয়ে স্তূপ করে রেখেছি। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েটে টেস্ট করা হবে। টেস্টে না টিকলে ব্লক বাতিল করে দেওয়া হবে।’

ন্যাশন টেকের ম্যানেজার গোলাম ফারুকও বলেন, ‘স্তূপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছি। এ বালুতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব টেস্ট করলেই ধরা পড়বে। সমস্যা ধরা পড়লে ব্লক যথাযথ কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেবে।’ অর্থাৎ ঠিকাদার পক্ষ মান যাচাইয়ের ভার ছেড়ে দিচ্ছে নির্মাণ-পরবর্তী পরীক্ষার ওপর।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান অবশ্য বলেছেন, ‘বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ফলে এখন প্রশ্ন হলো, তদন্তের ফল আসার আগ পর্যন্ত বিতর্কিত বালু দিয়েই কাজ চলতে থাকবে কি না।

পায়রা নদীর ভাঙন আমতলীর মানুষের জন্য প্রতিবছরের আতঙ্ক। সেই ভাঙন ঠেকাতেই শত কোটি টাকার এই প্রকল্প। বালুর মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ফল ও পাউবোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে নদীপারের বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আবহাওয়া ও পরিবেশ বিভাগের আরও খবর

আবহাওয়া ও পরিবেশ

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ: শরণখোলার সোনাতলায় আধা কিলোমিটারজুড়ে চিহ্ন, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গ্রা…

আবহাওয়া ও পরিবেশ

শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: দাবানল, ঘূর্ণিঝড় আর খরায় বিশ্বজুড়ে পাঁচ রকমের প্রভাব

কয়েক মাস ধরে শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো ইতিমধ্যে বিশ্বের আবহাওয়া বিন্যাসে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশে…