…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আবহাওয়া ও পরিবেশ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আবহাওয়া ও পরিবেশ

লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ: শরণখোলার সোনাতলায় আধা কিলোমিটারজুড়ে চিহ্ন, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে বাসিন্দারা সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা ও সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়োজিত ভিলেজ রেসপন্স টাইগার টিমকে (ভিটিআরটি) খবর দেন।

খবর পেয়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বনরক্ষী ও ভিটিআরটি সদস্যদের নিয়ে সোনাতলা গ্রামে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের পায়ের চিহ্ন দেখতে পান।

ভিটিআরটি লিডার মো. জাকারিয়া হোসাইন জানান, সকালে সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের ভিটিআরটি সদস্য আ. লতিফ হাওলাদার তাঁর বাড়ির পেছনে ভোলা নদীর লোকালয় পাড়ে ঝোপের মধ্যে এবং নদীর চরে বিক্ষিপ্তভাবে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। তিনিই প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

লতিফ হাওলাদারের দেখা ছাপগুলো ছড়িয়ে ছিল নদীর চর থেকে ঝোপঝাড় পর্যন্ত। এই বিস্তৃতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি রাতের কোনো একসময় লোকালয়ের ভেতরে ঘুরে বেড়িয়েছে, শুধু প্রান্ত ছুঁয়ে চলে যায়নি।

পায়ের ছাপ নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভিটিআরটি সদস্যরা মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন বলে জানান জাকারিয়া হোসাইন। ঘরে ঘরে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রথম কাজ।

বাঘটি লোকালয়ের কোনো ঝোপঝাড়ে দিনের বেলায় লুকিয়ে আছে, নাকি সুন্দরবনে ফিরে গেছে, তা নিশ্চিত হতে বনরক্ষী, কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ ও ভিটিআরটি সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন। ঝোপঝাড় ও নদীতীর ঘিরে চলছে এই অনুসন্ধান।

এসিএফ শরিফুল ইসলাম জানান, সারাদিন তল্লাশি চালিয়েও বাঘের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, বাঘটি ফের ভোলা নদী সাঁতরে সুন্দরবনে ফিরে গেছে। নদী পেরিয়ে আসা ও ফিরে যাওয়া — সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামগুলোর জন্য এ ধরনের ঘটনা একেবারে অপরিচিত নয়।

তবে বাঘের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় সতর্কতায় কোনো ঢিল দেওয়া হয়নি। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং রাতে ঘরের বাইরে বের না হতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

সোনাতলা গ্রামটি সুন্দরবনের একেবারে গা-ঘেঁষা। বন ও লোকালয়ের মাঝে ভোলা নদী থাকলেও বাঘ সাঁতারে পটু, ফলে নদী তাদের জন্য বড় বাধা নয়। অতীতেও শরণখোলাসহ সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন ভোরে ও গভীর রাতে বাইরে বের হওয়া মানুষ, বিশেষ করে নদী ও বনের ধারে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো। সতর্কবার্তায় তাই রাতের চলাচল সীমিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বন বিভাগ ও ভিটিআরটি সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করছেন। বাঘটি সত্যিই বনে ফিরে গেছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি ও মাইকিং চলবে। গ্রামবাসীর আতঙ্ক কাটতে তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও কিছু সময়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আবহাওয়া ও পরিবেশ বিভাগের আরও খবর

আবহাওয়া ও পরিবেশ

পায়রা রক্ষার ১৩৮ কোটির ব্লকে লবণাক্ত বালুর অভিযোগ: টেকসই নিয়ে শঙ্কায় আমতলীর বাসিন্দারা

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১৩৮ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে চলা ব্লক নির্মাণকাজে লবণাক্ত ও নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের শর্ত …

আবহাওয়া ও পরিবেশ

শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: দাবানল, ঘূর্ণিঝড় আর খরায় বিশ্বজুড়ে পাঁচ রকমের প্রভাব

কয়েক মাস ধরে শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো ইতিমধ্যে বিশ্বের আবহাওয়া বিন্যাসে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশে…