ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩১ শতাংশে—রয়টার্স/ইপসোসের নতুন জরিপ অনুযায়ী এটি তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি রেকর্ড সর্বনিম্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই জরিপ ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য উদ্বেগের চিত্রই তুলে ধরেছে।
একই জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান পার্টিও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে। উত্তরদাতাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তারা নামহীন একজন ডেমোক্র্যাট নাকি একজন রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এই ‘জেনেরিক’ কংগ্রেস ব্যালটে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছে ১২ পয়েন্টে।
ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট আমেরিকানদের হার গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা বিশেষভাবে জোরালো হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, যা পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে এবং অর্থনীতিজুড়ে তার ঢেউ ছড়িয়ে দিয়েছে।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও তার দলের সামনে বাড়তে থাকা সমস্যার চিত্র সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি জরিপেও উঠে এসেছে। এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
রোববার প্রকাশিত এনবিসির এক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন দেশ ভুল পথে চলছে। একই জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সেদিনই নির্বাচন হলে তারা ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোট দিতেন।
সোমবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট/এবিসি/ইপসোসের আরেকটি জরিপেও ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্নে—৩৩ শতাংশে—নেমে এসেছে। সেই জরিপে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বলেছেন, পেট্রল বা গ্যাসোলিনের দাম তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
একের পর এক জরিপে একই ধরনের চিত্র ওঠায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বড় ইস্যু হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করায় জরিপের এই সংখ্যাগুলো দুই দলের কৌশলেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে নির্বাচনের এখনো কিছুটা সময় বাকি, আর জরিপের চিত্র বদলাতেও পারে। আপাতত সংখ্যাগুলো বলছে, ভোটারদের মেজাজ শাসক দলের অনুকূলে নেই—আর সেই বার্তাই পৌঁছে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে।






