দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে তিন জেলের কারাদণ্ড, দেড় লাখ মিটার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে পটুয়াখালীর দশমিনায় তিন জেলেকে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য দপ্তরের যৌথ অভিযানে আটক হওয়ার পর তাঁদের এই সাজা দেওয়া হয়।
রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা যৌথ অভিযানে ওই তিন জেলেকে আটক করা হয়। অভিযানে তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও দেড় লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরঘূর্ণী গ্রামের মৃত রাজ্জাক জোমাদ্দারের ছেলে আইয়ুব জোমাদ্দার ও মো. রহমান জোমাদ্দার এবং দশমিনা ইউনিয়নের সৈয়দ জাফর গ্রামের লালু মৃধার ছেলে মো. ফারুক মৃধা।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার সময় ওই তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন।
জব্দ করা দেড় লাখ মিটার কারেন্টজাল হাজীর হাট এলাকায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আর তিনটি ট্রলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, মৎস্য দপ্তর ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিন জেলেকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং ট্রলারগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। এ সময় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদসহ নৌ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার নির্ধারিত সময়ে নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়লে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, তাই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশেই অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলছে।
দশমিনার এই অভিযান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তেঁতুলিয়া নদীকেন্দ্রিক এলাকায় জেলেদের একটি অংশ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতে কারেন্টজাল দিয়ে মাছ ধরছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, আর প্রশাসন বলছে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ সফল হলে পরবর্তী মৌসুমে ইলিশের আহরণ বাড়ে, যার সুফল পান জেলেরাই। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়টুকু মেনে চলাই জেলে সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে জরুরি।
প্রশাসন জানিয়েছে, সাজা ও জাল ধ্বংসের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলবে, যাতে নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ নদীতে না নামে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইউএনওর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।





