সহিংস বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স: এক দিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৩৯৭, আহত প্রায় ১ হাজার পুলিশ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আর স্কুলশিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ হাজার ৩৯৭ জন, আর বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
সাধারণ অহিংস প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে। ১৮ অক্টোবর শনিবার ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ ব্যাপক অস্থিরতার জন্ম দেয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এই সহিংসতার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। তার এই মন্তব্য এসেছে দেশজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ হাজার ৩৯৭ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
শুধু শনিবারই নয়, গত এক মাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে ফ্রান্সে আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা। সংঘাতের এই ধারাবাহিকতাই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
বিক্ষোভে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুচরা ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনের প্রধান রবিবার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর বেশিরভাগই লুটপাটের শিকার।
ফ্রান্সের খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিটেইল অ্যান্ড ট্রেড ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দ্রে বোম্পার এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ‘কয়েক শ’ মিলিয়ন ইউরো’ হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার জন্য এখনই সময় হয়নি বলে তিনি জানান।
বিক্ষোভের পেছনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কুলশিক্ষা সংস্কার ও জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ। এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।
কিন্তু প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, দোকানপাটে লুটপাট আর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে মূল দাবির চেয়ে সহিংসতার চিত্রই বড় হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে রয়েছে, চলছে গ্রেপ্তার অভিযান। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা সাতজনের চিকিৎসা চলছে।
ফ্রান্সে এই অস্থিরতা কবে থামবে, তা এখনো অনিশ্চিত। দাবি পূরণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না এবং বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন কোন দিকে নিয়ে যান, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।





