প্রতিনিধি পরিষদ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আশাবাদী জেফরিস, ওহাইওতে প্রচারে ঝাঁপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্দখলের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিস। রোববার ওহাইওর একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কংগ্রেস আসনে প্রতিনিধি মার্সি ক্যাপ্টুরের পক্ষে প্রচারে নেমে তিনি বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষেই স্থির রয়েছে। আসনটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
টোলেডোতে গির্জার প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জেফরিস রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা মওকুফের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তেরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধি পরিষদে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ আনার দ্বিদলীয় উদ্যোগ থাকবে, যেটি প্রেসিডেন্ট চাইলেই মওকুফ করতে পারবেন না।
জেফরিস বলেন, ‘এটা মর্মান্তিক, তবে বিস্ময়কর নয় যে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের জনগণের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মর্যাদার লক্ষ্যকে দুর্বল করতে এত কিছু করবেন।’ তাঁর এই মন্তব্য আসে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘিরে সপ্তাহান্তজুড়ে কংগ্রেসে ক্ষোভের মধ্যে।
ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেলে যিনি হাউস স্পিকার হওয়ার সারিতে রয়েছেন, সেই জেফরিস ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে প্রায় ৫০টি শহর সফর করেছেন। তিনি বলেন, স্পিকার মাইক জনসন সম্প্রতি যেমনটি ইঙ্গিত দিয়েছেন—৩ নভেম্বরের নির্বাচন ২০২৪ সালের সেই ঝড়ের পুনরাবৃত্তি হবে, যাতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এবং রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে গিয়েছিলেন—এমনটি ভাবার ক্ষেত্রে হাউস রিপাবলিকানরা ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’।
জেফরিস বলেন, ‘আমরা সারা দেশে কঠোর পরিশ্রম করছি, এই যুক্তি তুলে ধরছি যে স্থিতাবস্থার বিপরীতে আমাদের নাটকীয় পরিবর্তন দরকার, এবং এই দেশকে সাশ্রয়ী করতে লড়াই করবে একমাত্র ডেমোক্র্যাটরাই।’ সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার প্রশ্নটিকেই তিনি তাঁর দলের প্রচারের কেন্দ্রে রাখেন।
ওহাইওতে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তীব্র লড়াই চলছে, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। অনেক মনোযোগ রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ও ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউনের সিনেট লড়াইয়ের দিকে থাকলেও প্রতিনিধি পরিষদের আসনভিত্তিক লড়াইগুলোই সেই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ খুলে দেওয়ার চাবিকাঠি।
টোলেডো এলাকার হাউস আসনটি শীর্ষ অগ্রাধিকারের একটি। ক্যাপ্টুর কয়েক দশক ধরে দায়িত্বে রয়েছেন এবং তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সবচেয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী নারী সদস্য। কিন্তু ট্রাম্প এই জেলায় জিতেছেন এবং রিপাবলিকানরা আসনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। দুই বছর আগে ক্যাপ্টুর রিপাবলিকান প্রার্থী ডেরেক মেরিনকে হারিয়েছিলেন, তবে মেরিন আবারও আসনটির জন্য লড়ছেন।
ক্যাপ্টুর এপিকে বলেন, ‘আমরা খুব কঠোর পরিশ্রম করি। আমরা শুধু নির্বাচনের সময় কাজ করি না। আমরা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে কাজ করি।’ আগস্টে ৮০ বছর বয়সী ক্যাপ্টুর গির্জায় যাওয়ার পথে যাত্রী হিসেবে থাকা গাড়িতে ধাক্কা লাগে; দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তবে এখন সেরে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন।
জেফরিস বলেন, ক্যাপ্টুর গ্রেট লেকস অঞ্চলের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তাঁর ভাষায়, ‘আবারও তিনি সব প্রত্যাশা ভুল প্রমাণ করবেন।’ এলাকাটিতে বড় একটি ইউক্রেনীয়-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বাস, এবং ক্যাপ্টুর কংগ্রেসের ইউক্রেন ককাসের প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি—যা ইউক্রেনের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া আইনপ্রণেতাদের একটি দ্বিদলীয় গোষ্ঠী।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন ক্যাপ্টুরও। লিন্ডসি গ্রাহামের নামে করা রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের বিধানগুলো, যা ইউক্রেনকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করতে কংগ্রেস পাস করেছিল, শুক্রবার গভীর রাতে ট্রাম্প তা মওকুফ করেন। বিলটি গত মাসেই আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প, এবং নিষেধাজ্ঞাগুলো রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
ক্যাপ্টুর বলেন, ‘তিনি যা করেছেন তা একেবারেই অন-আমেরিকান। তিনি পুতিনের পক্ষ নিয়েছেন।’ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—কংগ্রেসের সদস্যরা সপ্তাহান্তে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে স্পিকার জনসন রোববার ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে বলেন, তাঁর বেশ কয়েকজন সহকর্মী উদ্বেগ তুলেছেন। তিনি এখনো ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেননি, তবে প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন বলে তিনি জানেন। জনসনের ভাষায়, ‘আমাদের এ নিয়ে কথা বলতে হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিগুলো সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হবে।’
ফলে ওহাইওর প্রচার শুধু একটি আসনের লড়াই থাকেনি; তা একসঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ, ইউক্রেন নীতি এবং নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ওয়াশিংটনের দ্বিদলীয় টানাপোড়েনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ৩ নভেম্বরের ভোটের দিকে যত এগোবে সময়, ক্যাপ্টুর-মেরিন লড়াইয়ের মতো আসনগুলোই নির্ধারণ করবে জেফরিসের আশাবাদ বাস্তবে রূপ নেয় কি না।






