শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখতেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন, বললেন ট্রাম্প; জেলেনস্কির কড়া প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার ওপর আরোপের অপেক্ষায় থাকা একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। তাঁর ভাষ্য, বোকার মতো এমন কিছু তিনি করতে চান না, যা রাশিয়াকে দর-কষাকষির টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেবে।
নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে ট্রাম্প সেগুলো আটকে দেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন আরও গভীর হয়েছে।
জেলেনস্কি রোববার এনবিসি নিউজকে বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নেওয়া হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল। যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিয়ে আসা জেলেনস্কি বারবার বলে আসছেন, পুতিন আসলে শান্তি চান না—২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই তাঁর এই অবস্থান।
অন্যদিকে রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সত্যিকারের ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ওই নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারের মারাত্মক ক্ষতি হতো।
ট্রুথ সোশ্যালের একই বার্তায় ট্রাম্প জেলেনস্কির বিরুদ্ধেও কড়া মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, জেলেনস্কি এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না, সম্ভবত কখনো চানওনি; দুই বছর আগে তিনি এখনকার তুলনায় ভালো একটি চুক্তি করতে পারতেন।
ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের পেছনে আরও একটি প্রসঙ্গ আছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির একটি বিতর্কিত চুক্তি করে, যা ইউক্রেনের অসন্তোষ বাড়িয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
এরপর জেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত নেতাদের মধ্যে থাকতে পেরে ভালো লাগছে। এই মন্তব্যের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গেই আচরণ করা বেশি কঠিন। জেলেনস্কি শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
ফলে একদিকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য—দুই মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কের টান এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প যেখানে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার যুক্তি দিচ্ছেন, সেখানে কিয়েভের আশঙ্কা, ছাড় দিলে মস্কো আরও সুবিধা পাবে।
এখন নজর থাকবে শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে। নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত আলোচনায় সত্যিই অগ্রগতি আনে কি না, আর ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কের এই দূরত্ব কীভাবে সামলানো হয়—সেটাই আগামী দিনগুলোতে নির্ধারণ করবে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের গতিপথ।






