অভিষেকেই ৪৪ গজের ফিল্ড গোল, পরের কিকঅফেই হাঁটুর চোটে ছিটকে গেলেন র্যামসের নতুন কিকার গ্রুপে
লস অ্যাঞ্জেলেস র্যামসের নতুন কিকার ব্লেক গ্রুপের অভিষেকটা শুরু হয়েছিল স্বপ্নের মতো, শেষ হলো দুঃস্বপ্নে। প্রথম ড্রাইভেই ৪৪ গজের সফল ফিল্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ঠিক পরের কিকঅফেই প্রতিপক্ষের রিটার্নারকে ঠেকাতে গিয়ে নিজের হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাঁকে।
গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ র্যামসের স্পেশাল টিমের জন্য ছিল নাটকীয়। বাফেলোর বিপক্ষে ওভারটাইমে জয়সূচক ফিল্ড গোল মিস করার পর দলটি কিকার হ্যারিসন মেভিসকে ছেড়ে দেয়। তাঁর জায়গায় বিকল্প হিসেবে সই করানো হয় ব্লেক গ্রুপেকে।
রোববার অ্যারিজোনা কার্ডিনালসের বিপক্ষে সোফাই স্টেডিয়ামে গ্রুপে তাঁর প্রথম পরীক্ষায় উতরে যান। আক্রমণভাগের উদ্বোধনী ড্রাইভের শেষে ৪৪ গজ দূর থেকে তাঁর কিক সোজা পোস্টের ভেতর দিয়ে যায়। অভিষেকে এমন শুরুতে মনে হয়েছিল, র্যামস হয়তো তাদের কিকার-সংকটের সমাধান পেয়ে গেছে।
কিন্তু সেই স্বস্তি টিকল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। পরের কিকঅফেই পরিস্থিতি বদলে যায় নাটকীয়ভাবে।
কার্ডিনালসের রিটার্নার ডেভিন ডুভার্নে কভারেজ ভেঙে এগিয়ে এলে শেষ প্রহরী হিসেবে সামনে ছিলেন গ্রুপে নিজেই। মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার এই কিকার আক্রমণাত্মকভাবে কাঁধ নামিয়ে ডুভার্নেকে ধাক্কা দিয়ে ৪৭ গজ লাইনে মাঠের বাইরে ঠেলে দেন। সংঘর্ষের পর গ্রুপেকে চার হাতে-পায়ে ভর দিয়ে মাটিতে বসে থাকতে দেখা যায়, মুখে যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট।
ট্রেনাররা প্রথমে তাঁকে নীল মেডিকেল তাঁবুতে নিয়ে যান। এরপর তিনি লকার রুমে ফিরে যান এবং তাঁর অবস্থাকে হাঁটুর চোট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ম্যাচে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা ‘সন্দেহজনক’ বলে জানানো হয়।
এই চোট র্যামসের স্পেশাল টিমের চলমান দুর্ভোগকে আরও গভীর করেছে। জেনারেল ম্যানেজার লেস স্নিড মাত্র কয়েক দিন আগেই গ্রুপেকে সই করিয়েছিলেন, কারণ মেভিস বিলসের বিপক্ষে ওভারটাইমে ৪৮ গজের চেষ্টা ডান দিকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যার খেসারত হিসেবে ম্যাচটাই হেরে যায় লস অ্যাঞ্জেলেস।
একজন কিকারের ব্যর্থতায় বদলি আনা হলো, সেই বদলি প্রথম কিকেই সফল হলেন, অথচ পরের খেলায় নিজেই চোটে ছিটকে গেলেন—এক সপ্তাহের মধ্যে এমন উত্থান-পতন যেকোনো দলের জন্যই অস্বাভাবিক।
গ্রুপে বেরিয়ে যাওয়ার পর পান্টার ইথান ইভানস অনুশীলনের জালে কিকের মহড়া শুরু করেন। তবে ইভানসের নামে এনএফএলে কোনো ফিল্ড গোলের চেষ্টার রেকর্ড নেই, ফলে তাঁর ওপর নির্ভর করা দলের জন্য বড় ঝুঁকি।
সক্রিয় রোস্টারে ব্যাকআপ কিকার না থাকায় প্রধান কোচ শন ম্যাকভেকে ইভানসকে কেবল জরুরি বিকল্প হিসেবেই ভাবতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁকে খেলার পরিকল্পনাও বদলাতে হচ্ছে—ফিল্ড গোলের বদলে আক্রমণাত্মক চতুর্থ ডাউন রূপান্তরের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে দলকে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালের মধ্যেই র্যামসের ফ্রন্ট অফিস সম্ভবত সাত দিনের মধ্যে তাদের তৃতীয় কিকারের খোঁজে নামবে। গ্রুপের চোটের গুরুত্ব ও ফেরার সময় জানা গেলেই সেই সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্ট হবে।
র্যামসের জন্য শিক্ষা একটাই—স্পেশাল টিমের একটি পজিশনের অনিশ্চয়তা পুরো দলের কৌশল বদলে দিতে পারে। অভিষেকে নায়ক হতে যাওয়া গ্রুপের এখন লড়াই মাঠে ফেরার, আর দলের লড়াই তাঁর বিকল্প খুঁজে বের করার।




