এনএফএলে চমকের সপ্তাহ: চোটে জর্জরিত ঈগলসকে হারাল প্যান্থার্স, প্রত্যাবর্তনেই জ্বললেন উইলিয়ামস
মার্কিন পেশাদার ফুটবল লিগ এনএফএলের এই সপ্তাহের খেলায় চমক আর প্রত্যাবর্তনের গল্পই ছিল প্রধান আকর্ষণ। চোটে জর্জরিত ফিলাডেলফিয়া ঈগলসকে হারিয়েছে ক্যারোলাইনা প্যান্থার্স, চোট কাটিয়ে ফিরেই শিকাগো বিয়ার্সকে জিতিয়েছেন ক্যালেব উইলিয়ামস, আবার লামার জ্যাকসনকে ছাড়া খেলতে নামা বাল্টিমোর রেভেন্সকে হারিয়ে চমক দিয়েছে ক্লিভল্যান্ড ব্রাউন্স।
প্যান্থার্সের জয়ের নায়ক ছিলেন ব্রাইস ইয়ং। তিনি ২৮১ গজ পাস ছুড়ে টমি ট্রেম্বলকে দুটি টাচডাউন পাস দিয়েছেন। চুবা হাবার্ড দৌড়ে সংগ্রহ করেছেন ১২০ গজ ও একটি স্কোর। প্যান্থার্সের বর্তমান রেকর্ড ৩ জয় ও ২ হার। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের সামনে ঈগলসের রক্ষণভাগ প্রায় অসহায় হয়ে পড়ে।
ঈগলসের দুর্দশার মূল কারণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি। কোয়ার্টারব্যাক জ্যালেন হার্টস ও রানিং ব্যাক সাকুয়ান বার্কলিকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে তাদের। পায়ের পেশিতে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় হার্টস আছেন ইনজুরড রিজার্ভে; অন্তত চারটি ম্যাচ তিনি মাঠের বাইরে থাকবেন। তার জায়গায় শুরু করা ট্যানার ম্যাকি ৪৫টি পাসের মধ্যে ২৬টি সম্পন্ন করে ২১৫ গজ ও একটি টাচডাউন পেয়েছেন। ঈগলসের রেকর্ড এখন ২ জয় ও ৪ হার।
শিকাগোতে ছিল প্রত্যাবর্তনের গল্প। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে ফেরা ক্যালেব উইলিয়ামস ম্যাচের প্রথম ১২টি পাসই সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ডি'আন্দ্রে সুইফটের দুটি রাশিং টাচডাউনে বিয়ার্স (৪-২) হারিয়েছে আটলান্টা ফ্যালকনসকে (২-৪)। একপর্যায়ে ৩১-৭ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বিয়ার্স শেষ কোয়ার্টারে ফ্যালকনসের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ঠেকিয়ে দেয়।
বিয়ার্সের রক্ষণেও ছিল ফেরার উজ্জ্বলতা। পায়ের পেশির চোট কাটিয়ে ফেরা কর্নারব্যাক কাইলার গর্ডন করেছেন তিনটি স্যাক ও দুটি ফোর্সড ফাম্বল। ম্যাচের ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড বাকি থাকতে, বিয়ার্স ৩১-২৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় মাইকেল পেনিক্স জুনিয়রকে স্যাক করে ফাম্বলে বাধ্য করাই ছিল তার দিনের সেরা মুহূর্ত।
ক্লিভল্যান্ডে এসেছে আরেকটি বড় অঘটন। শেষ মুহূর্তে আন্দ্রে স্মিটের ৩৭ গজের ফিল্ড গোলে রেভেন্সকে হারিয়েছে ব্রাউন্স। সেই ফিল্ড গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল ডেশান ওয়াটসনের জেরি জিউডির উদ্দেশে ছোড়া ৩৩ গজের পাস। ব্রাউন্সের প্রথম বর্ষের কোচ টড মনকেনের জন্য এই জয় বিশেষ—আগের তিন মৌসুম তিনি রেভেন্সেরই আক্রমণাত্মক সমন্বয়কারী ছিলেন।
রেভেন্সকে ভুগতে হয়েছে তারকা কোয়ার্টারব্যাক লামার জ্যাকসনের অনুপস্থিতিতে। গোড়ালির চোটে তিনি খেলতে না পারায় টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে দায়িত্ব সামলেছেন টাইলার হান্টলি। প্রথম দুটি আক্রমণে স্কোর করলেও এরপর আর তেমন কিছু করতে পারেনি বাল্টিমোর। দুই দলেরই রেকর্ড এখন ৪ জয় ও ২ হার।
নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস জয়ের ধারা টেনে নিয়েছে টানা তিন ম্যাচে। ড্রেক মেয়ি ছুড়েছেন তিনটি টাচডাউন পাস; ৩২টি পাসের মধ্যে ১৮টি সম্পন্ন করে তিনি সংগ্রহ করেছেন ২৩৫ গজ। রোমিও ডাবস, ডিমারিও ডগলাস ও হান্টার হেনরি পেয়েছেন টাচডাউন ধরা; ডগলাস একাই ধরেছেন সাতটি পাসে ৮৬ গজ।
নিউ ইয়র্ক জেটসের (২-৪) হয়ে জেনো স্মিথ ৩০টি পাসের মধ্যে ২০টি সম্পন্ন করে ২৫২ গজ ও একটি টাচডাউন পেলেও এই মৌসুমে প্রথমবার ইন্টারসেপশনের শিকার হয়েছেন। জেসন স্যান্ডার্সের চারটি ফিল্ড গোল জেটসকে লড়াইয়ে রেখেছিল; শেষ ৩২ সেকেন্ডে তার ৩৬ গজের ফিল্ড গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২৬-১৯-এ। কিন্তু অনসাইড কিকটি প্যাট্রিয়টস (৪-২) ধরে ফেলায় জেটসের শেষ আশাও শেষ হয়ে যায়। জেটসের জামিয়েন শেরউড করেছেন ম্যাচসেরা ১১টি ট্যাকল।
পিটসবার্গে দেখা গেছে রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন। চতুর্থ কোয়ার্টারে ১৬-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা স্টিলার্স (৪-২) টানা ১৬ পয়েন্ট তুলে ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। অ্যারন রজার্স চতুর্থ কোয়ার্টার ও অতিরিক্ত সময়ে টাচডাউন পাস ছুড়েছেন, আর ক্রিস বসওয়েল করেছেন চারটি ফিল্ড গোল। ট্যাম্পা বে বুকানিয়ার্স (১-৫) মাত্র তিন সেকেন্ড বাকি থাকতে চেজ ম্যাকলাফলিনের ৫৩ গজের ফিল্ড গোলে ১৯-১৯ সমতা ফিরিয়েছিল; কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে রজার্সের ১২টি খেলায় ৭০ গজ এগিয়ে যাওয়া আক্রমণ শেষ হয় জার্মি বার্নার্ডকে দেওয়া ছয় গজের টাচডাউন পাসে, খেলার তখন ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড বাকি।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের পিচ্ছিল ঘাসে হিউস্টন টেক্সান্স হারিয়েছে জ্যাকসনভিল জাগুয়ার্সকে। সময় শেষ হওয়ার মুহূর্তে কাইমি ফেয়ারবেয়ার্নের ৪৯ গজের ফিল্ড গোলই জয় এনে দেয়; সিজে স্ট্রাউড ছুড়েছেন তিনটি টাচডাউন পাস। এর আগে মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময় বাকি থাকতে ক্যাম লিটলের ৬০ গজের ফিল্ড গোলে ৩১-৩১ সমতা ফিরিয়েছিল জাগুয়ার্স। ট্র্যাভিস হান্টার একই ম্যাচে টাচডাউন ধরা ও ইন্টারসেপশন—দুই-ই করে সুপার বোল যুগে মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন। এই জয়ে টানা দুই জয় পাওয়া টেক্সান্স (২-৪) এএফসি সাউথের শীর্ষে থাকা জাগুয়ার্সের (৪-২) সঙ্গে ব্যবধান কমিয়েছে; এই ম্যাচেই টেক্সান্সের হয়ে অভিষেক হয়েছে মারভিন হ্যারিসন জুনিয়রের।
নিউ অরলিন্স সেন্টস (২-৪) টানা ৩৪ পয়েন্ট তুলে নিউ ইয়র্ক জায়ান্টসকে (৩-২-১) হারিয়ে শেষ করেছে তিন ম্যাচের হারের ধারা। টাইলার শাফ ছুড়েছেন তিনটি টাচডাউন পাস ও নিজে দৌড়েও একটি স্কোর করেছেন। অন্যদিকে টেনেসি টাইটান্স পেয়েছে মৌসুমের প্রথম জয়—ইন্ডিয়ানাপোলিস কোল্টসকে হারিয়ে। বিরতিতে ১৩ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা টাইটান্সের (১-৫) হয়ে জোয়ি স্লাই ম্যাচের ২ মিনিট ৩ সেকেন্ড বাকি থাকতে করেছেন ৪৯ গজের জয়সূচক ফিল্ড গোল; কোচ রবার্ট সালেহ পেয়েছেন দলটির হয়ে প্রথম জয়। সব মিলিয়ে এই সপ্তাহ এনএফএল ভক্তদের দিয়েছে অঘটন, প্রত্যাবর্তন আর শেষ মুহূর্তের নাটক—সবই।





