প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার স্ত্রীর পোস্ট নিয়ে তদন্ত হবে না: ব্রিটিশ পুলিশ
যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার স্ত্রীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নিয়ে কোনো ফৌজদারি তদন্ত হবে না। পোস্টটি নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করে বলে মনে করা হচ্ছিল।
মেট পুলিশের এক মুখপাত্র শনিবার বলেন, কর্মকর্তারা সারাহ হেলমের পোস্টটি খতিয়ে দেখেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এটি ‘ফৌজদারি মাত্রা পূরণ করে না। পুলিশের পক্ষ থেকে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।’ শুক্রবার পুলিশ বলেছিল, হেলমের পোস্ট ‘মূল্যায়ন করা হচ্ছে, আর কোনো পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন হবে কি না তা নির্ধারণের জন্য’।
লেখক ও সাংবাদিক সারাহ হেলম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমরা যেসব লেখক প্যালেস্টাইন ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি, ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করুন।’
হেলমের এই মন্তব্য আসে প্রকাশক ফ্যাবারের এই সপ্তাহের ঘোষণার পর, যেখানে বলা হয় আইরিশ লেখিকা স্যালি রুনি তার রয়্যালটি দিয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থনের পরিকল্পনা ঘোষণা করায় যুক্তরাজ্যে তাঁর বই বিক্রি করা যাবে না।
ফ্যাবার তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে বলে, ‘যুক্তরাজ্যের বর্তমান আইনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে ফ্যাবার স্যালির কাজের জন্য তাঁর যুক্তরাজ্যের আয় তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে পারছে না। একজন লেখকের কাজ বিক্রি করে তাঁকে আয় দিতে না পারা একজন প্রকাশকের জন্য বিবেকহীন পরিস্থিতি। সেই কারণে, এবং স্যালির পূর্ণ সম্মতিতে, আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে যুক্তরাজ্যে আর কোনো ফরম্যাটে তাঁর কাজ সরবরাহ করব না।’ প্রকাশক জানায়, অন্য দেশ ও অঞ্চলে তাঁর বই বিক্রি চলবে।
ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট অ্যান্টিসেমিটিজম নামের একটি ব্রিটিশ এনজিও এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হেলমের পোস্টকে ‘হতবাক করার মতো’ আখ্যা দেয় এবং বলে, ‘স্পষ্টতই পুলিশের তদন্ত করা দরকার এবং মিস হেলমকে আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।’ শুক্রবার মন্তব্য চাওয়া হলে সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, হেলমের মন্তব্য ‘কোনোভাবেই সরকারের অবস্থান প্রতিনিধিত্ব করে না’।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের ভোটের পর থেকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, গত বছর নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থনের অভিযোগে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের অনেকেই শুধু প্ল্যাকার্ড ধরে রেখেছিলেন।
সংগঠনটি নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলেও জুনে আপিল আদালত সরকারের পক্ষেই রায় দেয় — যার পর থেকে এই আইন ঘিরে যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

