বিদ্যুৎ সংকটের শঙ্কায় এসেক্সের বিশাল এআই ডেটা সেন্টার ছাড়ল মাইক্রোসফট
বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাজ্যের এসেক্সে পরিকল্পিত বিশাল একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে মাইক্রোসফট। ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান এনস্কেলের তৈরি এই প্রকল্পটিকে যুক্তরাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা দেশের সবচেয়ে বড় এআই ডেটা সেন্টার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
প্রকল্পটি এসেক্সের লটন এলাকায় আগামী বছর চালু হওয়ার কথা ছিল। ২০২৫ সালে ঘোষণার সময় এটিকে দেশের বৃহত্তম এআই ডেটা সেন্টার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে সন্দেহ আগেই তৈরি হয়েছিল। গত মার্চে জানা যায়, প্রস্তাবিত স্থানটি তখনো একটি চালু স্ক্যাফোল্ডিং ইয়ার্ড হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর এক মাস আগে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার কারণে প্রকল্পটি চালু হতে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়বে—এমন খবরও সামনে আসে। সেই পটভূমিতেই মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠানটিকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে। চুক্তি বাতিলের এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করে টেলিগ্রাফ।
মাইক্রোসফট ছিল প্রকল্পটির অন্যতম বড় পরিকল্পিত গ্রাহক এবং সম্ভাব্য প্রধান ভাড়াটিয়া (অ্যাংকর টেন্যান্ট)। এর সরে যাওয়ায় এসেক্সের এই ডেটা সেন্টারের জন্য প্রকাশ্যে ঘোষিত একমাত্র গ্রাহকটিকেই হারাল এনস্কেল। তবে নরওয়েতে এনস্কেলের আরেকটি প্রকল্পে মাইক্রোসফট এখনো যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের এআই কৌশল ঘোষণার সময় লটন প্রকল্পটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছিল এবং এটিকে ‘যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম সার্বভৌম এআই ডেটা সেন্টার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। চ্যাটবটের মতো এআই প্রযুক্তির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র হিসেবে কাজ করে ডেটা সেন্টারগুলো।
এনভিডিয়াসহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থন পাওয়া এনস্কেল নিজেকে ব্রিটেনের ‘সার্বভৌম’ ডেটা সেন্টার সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু লটন প্রকল্পের প্রধান ভাড়াটিয়া হারানোয় চলতি বছর ওয়াল স্ট্রিটে সম্ভাব্য ৩৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যায়নে তালিকাভুক্ত হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনস্কেলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা লটন প্রকল্প ও যুক্তরাজ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছেন এবং সাইটটির জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস খুঁজছেন; পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে আরও সম্প্রসারণ সাইট নিয়েও কাজ চলছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি রয়েছে এবং লন্ডনজুড়ে গ্রিডের এই সমস্যার প্রভাব তাদের অন্য চুক্তিগুলোতে পড়বে না।
বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস পাওয়া গেলে প্রকল্পটি আবার গতি পায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপাতত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তাই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত এআই অবকাঠামো প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ ঝুলিয়ে রেখেছে।

