গুয়াতেমালায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গুলি করে হত্যা সাবেক প্রসিকিউটর ফোপাকে
গুয়াতেমালার খ্যাতনামা দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী ও সাবেক প্রসিকিউটর হুয়ান ফ্রান্সিসকো সলোরজানো ফোপাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুই ব্যক্তির গুলিতে তিনি নিহত হন।
শনিবার কাম্পো মার্তে ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় অনুযায়ী, হামলায় ফোপা ছাড়াও গুস্তাভো আদোলফো আগিলার গামারো নামের আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন।
ঘটনার পরপরই গুয়াতেমালা পুলিশ জানায়, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে কারবাইন-ধাঁচের একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
৪৩ বছর বয়সী ফোপা ছিলেন একজন সাবেক প্রসিকিউটর ও দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী, যিনি গুয়াতেমালার সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও কোম্পানিগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এক বিশিষ্ট সাংবাদিকের প্রতিরক্ষা দলেও যোগ দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো এই হামলার নিন্দা করেছেন। তাঁর আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘সাবেক প্রসিকিউটর হুয়ান ফ্রান্সিসকো সলোরজানো ফোপার কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সরাসরি হত্যাকারী এবং যারা এই অপরাধের নির্দেশ দিয়েছে — উভয়কেই আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
আরেভালো বলেন, অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য তিনি তাঁর সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘যারা মনে করে সন্ত্রাস দিয়ে গুয়াতেমালার জনগণ ও আমার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ভয় দেখানো যাবে, তারা ভুল করছে। ফোপার সম্মানে, আমাদের মাতৃভূমির সম্মানে, ন্যায়বিচারের সম্মানে।’
ফোপা পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের অপরাধ তদন্ত অধিদপ্তরের প্রধান ছিলেন। পরে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি গুয়াতেমালার কর কর্তৃপক্ষের (স্যাট) দায়িত্ব নেন, যেখানে তিনি ডজনখানেক ক্ষমতাধর গুয়াতেমালান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা চালাতে এবং অপরিশোধিত কর আদায়ে ভূমিকা রাখেন।
২০২৫ সালে ফোপা বারিও ১৮ গ্যাংয়ের সঙ্গে ন্যাশনাল ইউনিটি অব হোপ পার্টির সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন, পাশাপাশি অপরাধী চক্রের সঙ্গে বিচারব্যবস্থার যোগসাজশের কথাও বলেন। ২০২৩ সালে তিনি গুয়াতেমালান সাংবাদিক হোসে রুবেন জামোরার প্রতিরক্ষা দলে যোগ দিয়েছিলেন — যিনি মধ্য আমেরিকায় সাংবাদিকতার অপরাধীকরণ এবং বিচারিক স্বাধীনতা ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় তাঁর বিরুদ্ধে প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া এবং তথ্য ধ্বংস বা গোপন করার অভিযোগ আনলে ফোপাকে জামোরা মামলা ছাড়তে হয় — অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করলেও একটি প্লি চুক্তির অংশ হিসেবে তা মেনে নেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল তিনি ন্যায্য বিচার পাবেন না।
ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়ে যাওয়া এই আইনজীবীর হত্যাকাণ্ড গুয়াতেমালায় ন্যায়বিচার ও বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনে দিল।


