হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সব ধরনের সহায়তার ঘোষণা মিসরের
ইয়েমেনের হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যে সৌদি আরবকে তার নিরাপত্তা রক্ষা ও সম্পদ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মিসর। প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছে, কায়রো সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ রোববার জানায়, সৌদি আরবের সম্পদ, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও ইসলামের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায় মিসর পুরোপুরি সৌদি আরবের পাশে রয়েছে।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর আরও জানায়, উত্তেজনা কমাতে কায়রো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরদার করবে। অর্থাৎ সামরিক ও নিরাপত্তা সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টাও চলবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, যার অর্থ আল্লাহর সমর্থক। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোতে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই শুরুর প্রেক্ষাপটে এসব হামলা হয়েছে।
শনিবার এক ভাষণে সিসি বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা অনুযায়ী মিসর কাজ করবে। ইয়েমেনে লড়াই আবার শুরু হওয়ার পর গত মাসে সৌদি যুবরাজ মিসর সফর করেছিলেন।
সিসি রোববার অনুষ্ঠিত জরুরি সংসদ অধিবেশনেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য সৌদি আরবের যেকোনো অনুরোধ অনুমোদনের ক্ষমতা তাঁকে দেওয়া যায়। অর্থাৎ সহায়তার বিষয়টি কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গত মাসে কায়রোতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে সিসি লোহিত সাগরে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচলের সৌদি আহ্বানকে সমর্থন করেছিলেন।
সে সময় মিসরের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবারের ঘোষণায় সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ রাজ্য ও লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল রক্ষায় সহায়তা খুঁজছে। মিসর এই ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অংশীদার, কারণ তার সুয়েজ খালের আয় একই নৌ চলাচলের ওপর নির্ভর করে।
বিশ্লেষকদের আরও মত, ইরান ও তার মিত্ররা যাতে এই অঞ্চলে, বিশেষ করে লোহিত সাগরের নৌ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দিতে না পারে, তা ঠেকাতে মিসর আগ্রহী। সুয়েজ খালের ওপর এর প্রভাবের কারণেই এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরব ইরানকে রাজ্যের বিরুদ্ধে হুতি হামলায় উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ করেছে। তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে একদিকে মাঠে হামলা ও পাল্টা উত্তেজনা, অন্যদিকে অভিযোগ ও অস্বীকারের কূটনৈতিক টানাপোড়েন—দুই-ই একসঙ্গে চলছে।
এই পরিস্থিতিতে মিসরের ঘোষণা সৌদি আরবের জন্য রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি বাস্তব সহায়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সহায়তার ধরন ও পরিধি কী হবে, তা নির্ভর করবে রিয়াদের অনুরোধ এবং কায়রোর সংসদীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ার ওপর। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথাও একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যাতে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যায়।


